ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন কী খাবেন না

ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন কী খাবেন না

 আজকের এই প্রতিবেদনে আলোচনা করব ইউরিক এসিড কমাতে কী খাবেন কী খাবেন না। রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে তাকে হাইপার ইউরেশিয়া বলে। ইউরিক অ্যাসিড প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমাদের দেহে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয় বাকিটা আসে আমাদের খাদ্য থেকে।

বিশেষ করে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে এই বিশেষ ইউরিক অ্যাসিড আসে কেননা পিউরিন ভেঙ্গে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ভাবেই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড থাকে।

কিন্তু সমস্যা বারে যখন অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড কিডনি বের করে নিতে পারে না কিংবা দেহে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড তৈরি করতে শুরু করে। তখন সেই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড কৃষ্টাল আকারে দেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টৈ জমতে থাকে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বিভিন্ন জয়েন্টৈ মাঝে থেকে তীব্র ব্যথা ফুলে যাওয়া এবং লাল হওয়া এবং যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে।

অনেক ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে মেডিসিন গ্রহণ করার পরেও ব্যথা যন্ত্রণার তীব্রতা কমে না। এর কারণ হলো ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য মেডিসিন এর পাশাপাশি সঠিক খাদ্য গ্রহণ করে না। যেসব খাবার খেলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অর্থাৎ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তালিকা আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।

এবং যে সমস্ত খাবার অতিরিক্ত ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে সেইসব খাদ্য আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই এই প্রতিবেদনে সেই সমস্ত খাবারের তালিকা নিয়ে আপনাদের সামনে আলোচনা করব।

ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন না

একেবারে প্রথমে বলব ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন না । রেড’মিট অর্থাৎ রেড’মিট আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিন কারণ রেড’মিট খেলে অতিরিক্ত পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড আপনার শরীরে জমতে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পিউরিন সমৃদ্ধ উপাদান কারণ মাংসের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ রয়েছে যেমন মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনি এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন আর তা আপনার শরীরের ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষত হাস, পায়রা, কোয়েল এই সমস্ত পাখির মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ইউরিক এসিড সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে যা আপনার উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উৎস। আর সেখান থেকে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে আপনার রক্ত।

[আরো পড়ুন : দাঁতের ব্যথা কমানোর ৭টি ঘরোয়া উপায়]

পিচ্ছিল কারক সবজি যেমন ঢেঁরস, কচুর লতি, কচুর মুখি, পুঁইশাক প্রভৃতির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ইউরিক এসিডের উপাদান রয়েছে। আপনার শরীরের ইউরিক এসিডের লেভেলকে ঠিক রাখার জন্য এই সমস্ত সবজি একটু কমাতে হবে। এছাড়া ফুলকপি, মাশরুম, পালংশাক, শিম, মটরশুঁটি, বেগুন খাদ্য তালিকা থেকে বাদ না দিলে। আপনার ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমাতে পারবেন না। আর এই উপাদানগুলি ততদিন পর্যন্ত কমাতে হবে যতক্ষণ না আপনার শরীরের ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে।

ইস্ট দিয়ে তৈরি খাবার এবং ইস সাপ্লিমেন্ট যেসব খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় যেমন পাউরুটি, নান, বিয়ার প্রভৃতি। ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে অবশ্যই খাদ্য তালিকা থেকে এগুলোকে বাদ দেওয়া উচিত।

সব ধরনের ডাল এবং ডালের তৈরি খাবার যেমন বেগুনি ফুচকা-চটপটি খিচুড়ি এইসব খাবার মুখরোচক হলেও ইউরিক এসিড কমাতে হলে লাগাম দিতে হবে এসব খাবারে। বাদাম ও বিচ জাতীয় খাবার যেমন শিমের বিচ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম বাদ দিন ইউরিক এসিডের মাত্রা কমানোর স্বাভাবিক রাখতে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাকড়া, মাছের ডিম যেকোনো ধরনের মাছ সেটা সামুদ্রিক মাছ আর মিঠে জলের মাছ এদের প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।

তাই এই সামুদ্রিক মাছ শামুক-ঝিনুক চিংড়ি মাছের ডিম এইসব খাবার ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ এর জন্য অবশ্যই বাদ দেওয়া উচিত এবং অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন কেক মিষ্টি ফলের রস পেপসি এই সমস্ত খাবারের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ইউরিক এসিড বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায় তাই এই খাবারগুলো আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে ।

হাই সুক্রোজ বা অতিরিক্ত মিষ্টি ফল এবং খাবার যে সমস্ত খাবারের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে এই সমস্ত খাবার আপনার শরীরের ইউরিক এসিড কমানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তাই ফলের মধ্যে খেজুর, আতাফল, বেদানা, কাঁঠাল আঙুর, নেসপাতি, আম, তাল, চেরি, কিউরি আলুবোখরার পাশাপাশি মধু গুর তৈরি খাবার ইত্যাদি আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন

এখন আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন বা কোন ধরনের খাবার আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে। যেমন প্রত্যেক দিন আপনার শরীরের টক্সিন কে বের করার জন্য অতিরিক্ত জল খান অতিরিক্ত জল ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস জল আপনি খাবেন।

দ্বিতীয়তঃ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের জুড়ি নেই তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আপনি রাখুন শাকসবজি এবং ফলমূল ও উটস ইসুবগুলের ভুষি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমতে থাকে ফলে আপনার ডায়েট চার্টে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই রাখুন যা আপনার ব্লাড জমে থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহের বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন-সি খাবার গুরুত্বপূর্ণ আপনি প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি গ্রহণ করুন অল্প সময়ের মধ্যে ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ইউরিক এসিড কমানোর জন্য নিয়মিত লেবু, আমলকী, আমরা, পেয়ারা, কমলালেবু, আনারস, এগুলো নিয়মিত ইউরিক এসিড কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে প্রতিদিন ভিটামিন-সি দরকার তাই এক কাপ আনারস খেলে তা পূরণ হবে ১০০%

এছাড়া আনারসের রয়েছে রোলামিন নামক এনজাইম যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে সুতরাং যারা ইউরিক এসিড কমাতে চান তারা অবশ্যই প্রত্যহ কিছুটা হলেও আনারস খান।

[আরো পড়ুন : বাসে উঠলেই বমি পায়? জানুন মুক্তির ১০টি উপায়]

পরবর্তী যে বিষয়ের কথা বলবো তা হলো লোফ্যাট মিল্ক টকদই এবং ডিম হাইপার ইউরেশিমিয়া কমাতে এবং সেইসঙ্গে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য বেছে নিন লোফ্যাট মিল্ক এবং কুসুম ছাড়া ডিম। অলিভ অয়েল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য আপনার রান্নায় পরিমিত তেল ব্যবহার করুন আর রান্নায় ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল অলিভ ওয়েলের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আপনার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে যা অতিরিক্ত ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে।

পরবর্তী আপেল আপেল মেলিক এসিট থেকে যা ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে তবে আপেলে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ বেশি থাকায় খুব বড় সাইজের নয় প্রতিদিন খাবার পর ছোট্ট একটি আপেল আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন। ইউরিক এসিড কমাতে চান তবে মেডিসিন এর পাশাপাশি অবশ্যই এই খাবারগুলো যদি গ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বা যাদের ইউরিক অ্যাসিড হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তারা এই খাবারগুলো নিয়মিত যদি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। এবং যে খাবারগুলো খেলে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পায় সেগুলো আপনার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন তাহলে ইউরিক অ্যাসিড হওয়ার প্রবণতা ১০০% কমে যাবে।

বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি আপনাদের কার্যকর মনে হলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং সবাইকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করুন ধন্যবাদ।