কিডনি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

কিডনি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

আজকের আলোচনার বিষয় হলো কিডনি নিয়ে যেমন কিডনি দেখতে কেমন কোথায় থাকে কিডনির কাজ কি কিডনি রোগের লক্ষণ ও কিডনি রোগ নিরাময়ের উপায় এই সব কিছু জানতে পারবেন আজকের এই প্রতিবেদনে এখন চলুন শুরু করা যাক।

সবার প্রথমে বলবো কিডনি হলো একটি ইংলিশ শব্দ এর বাংলা মানে হচ্ছে বৃক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আমাদের শরীরে মোট দুটি কিডনি থাকে এবং অন্যটি দেখতে কিছুটা শিমের বিচির মত এটি আমাদের কোমরের দুই পাশে অবস্থান করে কিডনির প্রধান কাজ হচ্ছে আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থগুলো ছাঁকনির মত ছেঁকে নিয়ে প্রসাবের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া এবং ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করা।

কিভাবে বুঝবেন আপনার কিডনি সমস্যা হয়েছে কিনা কিডনি রোগ নীরবে শরীরের ক্ষতি করে খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত এই লক্ষণগুলো ভালোভাবে বুঝাই যায় না কিন্তু কিছু কিছু লক্ষণ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার কিডনির কোন সমস্যা হয়েছে কিনা।

১. প্রসাবের সমস্যা

প্রসাবের সমস্যা বা প্রসাবের পরিবর্তন কিডনি রোগের লক্ষণ হলো প্রসাবের পরিবর্তন হওয়া কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে সমস্যা বাড়ে প্রসাবের রং গাঢ় হয় অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হলেও প্রসব হয় না ।

২. প্রসবের সময় ব্যথা

প্রসবের সময় ব্যথা করা কিডনি সমস্যার একটি লক্ষণ মূলত প্রসাবের সময় ব্যথা জ্বালাপোড়া এগুলো ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন এর লক্ষন। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।

৩. প্রসাবের সাথে রক্ত

প্রসাবের সাথে রক্ত যাওয়া প্রসাবের সাথে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়ে এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। এছাড়াও আরও রয়েছে যেমন দেহে ফোলা ভাব কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনি রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয় বাড়তি পানি শরীরের ফোলা ভাব তৈরি করে।

৪. মনোযোগ দিতে অসুবিধা

মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া কিডনিতে প্রবলেম হলে লোহিত রক্তকণিকা কমে যায় যার কারণে মস্তিষ্কে পরিবহন কমে যায়। অর্থাৎ লোহিত কণিকায় একমাত্র কারন যা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের পৌঁছায় যখন সময় হবে তখন রোহিত রক্তকণিকা কমে যাবে এবং অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যাবে তখনি আপনার কাজে মনোযোগ কমে যাবে।

আরো পড়ুন : বাসে উঠলেই বমি পায়? জানুন মুক্তির ১০টি উপায়

৫. শীত অনুভূত হওয়া

সবসময় শীত অনুভূত হওয়া কিন্তু কিডনির কোন রকম সমস্যা থাকলে শীত অনুভূত হবে আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বর আসতে পারে

৬. ত্বকে সমস্যা

কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে বা কিডনির কোন সমস্যা হলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ মিশে যায় এবং এর কারণে ত্বকে চুলকানি এবং রেস বেরতে থাকে।

৭. বমি বমি ভাব

বমি বা, বমি বমি ভাব রক্তে বর্জ্যপদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

৮. ছোট ছোট শ্বাস

ছোট ছোট শ্বাস নেয়া কিডনি রোগে ফুসফুসের তরল পদার্থ জমা হয় এছাড়া কিডনি রোগীর শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এসব কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয় তাই অনেকেই ছোট ছোট করে শ্বাস নেন

৯. পিছনে ব্যথা

কিডনি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

পিছনে ব্যথা কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরের ব্যথা হয় পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয় এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ এখন চলুন জেনে নেই এসব লক্ষণ হলে আপনি কি করবেন।

আগে যেসব লক্ষণ গুলোর কথা বললাম সেগুলোর মধ্যে যদি একটাও দেখা দেয় তবে সবার প্রথমে একবার কিডনি পরীক্ষা করে নিবেন কিডনি পরীক্ষার নাম হল সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং সিরাম অ্যালবাম ইন এ দু’টি টেস্ট আপনি করলে বুঝতে পারবেন আপনার কিডনী এর বর্তমান অবস্থা কেমন।

যদি দেখেন আপনার এই পরীক্ষার পরে রেজাল্ট নরমালে থেকে বেশি অর্থাৎ আপনার বর্তমান অবস্থা স্বাভাবিকের থেকে খুবই খারাপ তাহলে আপনি অবশ্যই একটি ভালো কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন এছাড়াও আমি কিছু বাড়িতে করা কিছু ব্যায়াম এবং কিছু শারীরিক চর্চার মাধ্যমে কিভাবে আপনি আপনার কিডনি কে সুস্থ রাখবেন সেগুলো এখন আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি

১. শরীরকে সুস্থ এবং কার্যকর রাখুন শরীর সুস্থ রাখতে কায়িক পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই অর্থাৎ ব্যায়াম এর কোন বিকল্প নেই নিয়মিত হাঁটা ব্যায়াম করা শরীরকে সুস্থ রাখে সেই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ কেউ ধরে রাখে।

২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডায়াবেটিস রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই কিডনি রোগ সনাক্ত করতে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা জরুরি এ ছাড়াও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে কিডনি সমস্যা হয় না।

৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন অনেকে জানে যে উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হয় যে বিষয়টি অনেকের জানন না তা হল এর কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ডায়াবেটিস রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি এবং হূদরোগীদের যদি উচ্চরক্তচাপ থাকে তাহলে তা কিডনির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এর মাধ্যমে ডায়াবেটিসসহ আরো যেসব রোগ কিডনি-জটিলতা জন্য দায়ী তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

আরো পড়ুন : ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ কিছু টিপস

কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু খাদ্যের প্রতি নজর দেওয়া দরকার যেমন পরিমিত পরিমাণে লবণ খাওয়া সারাদিনের খাবারের মাধ্যমে আমাদের পাঁচ থেকে ছয় গ্রাম অর্থাৎ চায়ের চামচের প্রায় এক চামচ লবণ খাওয়া যথেষ্ট।

এর বেশি খেলে কিডনি রোগের সংখ্যা বাড়ে প্রক্রিয়াজাত খাবার লবণের পরিমাণ বেশি থাকে এজন্য তা যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো খাবারের বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। সেই সঙ্গে সুস্থ থাকার জন্য তাজা ফল ও সবজি বেশি পরিমাণে আপনি খেতে পারেন।

৫. প্রচুর পানি পান করুন একজন সুস্থ মানুষের দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত পরিমিত পরিমাণে পানি পান করলে তার সোডিয়াম ইউরিয়া এবং বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে কিডনিকে সাহায্য করে ফলে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে।

৬. ধূমপান বন্ধ করুন ধূমপান করার ফলে কিডনিতে রক্ত প্রবাহের গতি কমে যায় ফলে কিডনি ধীরে ধীরে সঠিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারায় ধূমপানের অভ্যাস থাকলে কিডনি ক্যান্সার এর সংখ্যা ৫০ পার্সেন্ট বেড়ে যায় ।

৭. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রা অতিরিক্ত ব্যথানাশক এবং এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন না কিডনি সুস্থ থাকে তাহলে প্রয়োজনে এসব ওষুধ খাওয়া যেতে পারে এতে হয় কিডনি তেমন কোনো গুরুতর বিপদ হবে না কিন্তু নিয়মিত খেলে বা মাত্রা অতিরিক্ত খেলে তা কিন্তু কিডনির ক্ষতি ও রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে তাহলে বন্ধুরা তোমরা কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার।