কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরী ? 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরী ?

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরী ? 

ডাক্তার বাবুর কাছে শুনে প্রায়ই শুনে থাকবেন , কোলেস্টেরল বেড়েছে । LDL খুব বেড়ে গেছে –  Triglycerides ও খুব বেশি – HDL খুবই কম । শোনেন আর কনফিউসড হন । আসুন কোলেস্টেরল নিয়ে আপনার সব কনফিউসন দূর করা যাক , যাতে আপনার পক্ষে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় । 

কোলেস্টেরল নিয়ে আলোচনার আগে যারা এখনো Dr Biswas চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেননি, সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকন অন করে দিন যাতে Cholesterol control নিয়ে নতুন ভিডিও এলে তাকে মিস না করেন । 

কোলেস্টেরল কি ? 

কোলেস্টেরলকে নিয়ে সুনাম থেকে দূর্নামই বেশি । অনেকেই তো জানেনই না যে কোলেস্টেরলের কোন ভালো দিক আছে । আসলে কিন্তু কোলেস্টেরল শরীরের  খুবই দরকারি একটি যৌগ । কোলেস্টেরল মূলত আপনার লিভারেই তৈরি হলেও খাবার থেকেও আপনি কোলেস্টেরল পেতে পারেন । তবে আপনি একমাত্র প্রানিজ খাবার থেকেই কোলেস্টেরল পাবেন, উদ্ভিজ্জ কোন খাবারেই কোলেস্টেরল নেই । তাই কোন নামি উদ্ভিজ্জ তেল যদি তাদের কোলেস্টেরল ফ্রি বলে দাবি করেন , সেটি আসলে তাদের পাবলিসিটি স্ট্যান্ড ছাড়া কিছুই না, আসলে কোন উদ্ভিজ্জ তেলেই কোলেস্টেরল থাকে না । 

কোলেস্টেরল কেন মানবদেহে জরুরী ? 

কোলেস্টেরল আপনার শরীরে মূলত তিনটি কাজ করে – 

১। কোলেস্টেরল আপনার শরীরের বেশ কিছু হরমোনের উৎপাদনে সাহায্য করে । 

২। আপনার কোষের গঠনে কোলেস্টেরল অপরিহার্য্য । 

৩। লিভারে বাইল উৎপাদনে কোলেস্টেরল সাহায্য করে । 

তিন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরী ? 

A) ভালো কোলেস্টেরল  HDL

 HDL প্রোটিন ও ফ্যাট দিয়ে গঠিত একটি লিপোপ্রোটিন । লিপোপ্রোটিনটি কোলেস্টেরল বহন করে । HDL Cholesterol আপনার শিরা থেকে খারাপ Cholesterol LDL বেড় করে দেয় , ফলে সমগ্র রক্তসংবহনতন্ত্র সুস্থ , স্বাভাবিক ও সক্রিয় থাকে । ফলে আপনার শরীরে যদি তুলনামূলকভাবে বেশি HDL থাকে আপনার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো সম্ভাবনা কমে । 

আসলে ভালো কোলেস্টেরল HDL খারাপ কোলেস্টেরল LDL কে লিভারে নিয়ে যায় । লিভারে LDL ভেঙে শরীর থেকে বেড়িয়ে যায় । আমেরিকার National Institute of Health এর মতে  HDL ৬০ mg/dl বা তার বেশি হলে আপনি নিরাপদ । ৪০ mg/dl এর কম হয়ে গেলে চিন্তার কারন আছে , HDL বাড়ানোর উপায়গুলি আরো ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে । 

[আরো পড়ুন : গ্যাসের সমস্যা (acidity) দূর করুন ঘরোয়া উপায় ]

B) খারাপ কোলেস্টেরল LDL

LDL ও প্রোটিন ও ফ্যাট দিয়ে তৈরি একটি লিপোপ্রোটিন যা কোলেস্টেরল বহন করে । 

LDL কোলেস্টেরল আপনার শিরার দেওয়ালে জমা হতে থাকে , ফলে শিরার ভিতের ব্যাস কমতে থাকে । এর ফল তিনটি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে – 

১। অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহ কমতে থাকে , ফলে শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায় , যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারন হতে পারে । 

২। শিরা সংকুচিত হওয়ার ফলে , blood clot এর সংখ্যা বেড়ে যায় , ফলে রক্তপ্রবাহ আটকে যেতে পারে , যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারন হতে পারে । 

৩। শিরার স্থিতিস্থাপকতা কমে শক্ত হয়ে যায় । 

আপনার খারাপ কোলেস্টেরল LDL সবসময় ১০০ mg/dl এর কম রাখা উচিৎ । 

বুঝতেই পারছেন , কোলেস্টেরল আপনার শরীরের জন্য খুবই দরকারি একটি উপাদান । কিন্তু LDL কোলেস্টেরল মাত্রা ছাড়ালে বেশ কিছু সিরিয়াস সমস্যার কারন হতে পারে , তাই LDL নিয়ন্ত্রণেই রাখতে হবে । LDL নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আপনি দুটি কাজ করতে পারেন – 

১। শরীরের HDL বাড়াতে পারে এমন খাবার খান । 

২। শরীরে LDL কমাতে পারে এমন খাবার কম খান । 

মানে আপনাকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে খুব হিসাব করে খেতে হবে , জীবনযাত্রাও বদলাতে হবে । 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি নিয়ে পরপর আমরা আলোচনা করব । এছাড়া চ্যানেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ বাড়ানো নিয়ে অনেক বিজ্ঞানভিত্তিক ভিডিও পাবেন , যেগুলি আপনাকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে ।