নতুন চুল গজানোর সহজ ও কার্যকরী উপায়

নতুন চুল গজানোর সহজ ও কার্যকরী উপায়

অনেক চুল পড়ছে চুল পড়ে যাওয়া এখন  মাথা ব্যথার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগে চুলে লম্বা সুন্দর বেনি করতে পারতেন কিন্তু এখন একদম ছোট করে ফেলেছেন চুল ওঠা তাতেও বন্ধ হচ্ছেনা।  বর্তমানের অনেকের চুল পড়ার সমস্যা হচ্ছে কিন্তু ঠিক কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে এর সঠিক সমাধান হয়তো অনেকেরই জানা নেই।

 আর তাই আজকের ভিডিওতে এর সাইন্টিফিক ভাবে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করব এবং মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায় কি সে সম্পর্কে জানবো চলুন জেনে নেয়া যাক। 

নারী-পুরুষ উভয়ের কমবেশি সবারই চুল পড়া সমস্যা ভোগেন চুল একবার পড়া শুরু করে তা ক্রমশ বাড়তে থাকে দিনে ৫০ থেকে ১০০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 এই চুল পড়া সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য প্রথমে জানতে হবে কী কারণে চুল পড়ছে কারণ খুঁজে বের করে তারপর সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তখন আপনা-আপনিই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে যদি আপনার চুল পড়ার সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এখন যে কারণগুলো বলব এগুলো আপনার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। তাহলে আশাকরি এর সমাধান পেয়ে যাবেন। 

এবার আসুন তাহলে চুল পড়ার কারণ গুলো সম্পর্কে জানি সাধারনত বংশগত কারণে, দেহে হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের অভাব, আমিষের অভাব, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা ও বিভিন্ন রোগের প্রভাবে চুল পড়তে শুরু করে। 

একজন ব্যক্তির লাইফ স্টাইল তার চুল ধরে রাখার ওপর নির্ভর করে। তার চারপাশের পরিবেশ কেমন সে কি ব্যবহার করছে তার খাদ্যাভ্যাস তার ঘুমের অভ্যাস সবকিছু মিলিয়ে চুলের স্বাস্থ্যের উপর একটা প্রভাব ফেলে। 

যেমন ধরেন কেউ যদি বাইক চালায় তার মাথায় ধুলাবালি বেশি জমে সেক্ষেত্রে তাকে সেম্পু নিয়মিত করতে হবে। আবার কেউ বাসায় থাকছেন অথচ ফাস্টফুড খাচ্ছে অতিমাত্রায় তার ক্ষেত্রে চুলের যত্ন হবে অন্যরকম। 

যারা দূষণ সংক্রান্ত কোন কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রেও চুলপড়ার মাত্রা বেশি এছাড়াও আমরা কিছু কারণ জানি। যেমন ধরেন আমাদের দেশে বিশেষত মেয়েরা রক্ত শূন্যতায় ভোগে এটাও চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। 

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে চুলের চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খেয়াল করছে না যে রক্তশূন্যতায় ভুগছেন যেটা একটা সাধারন ওষুধের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। 

পাশাপাশি আমরা জানি কিছু হর্মনাল ইম্বালান্স মধ্যে থাইরয়েড হরমোন একটা জরুরী বিষয় এটা কম হলেও চুল পড়তে পারে। আবার বেশি হলেও চুল পড়তে পারে। আবার জেনেটিক বংশধারা ও চুল পড়তে পারে। 

অনেক সময় দেখা যায় কারো ভাগ্য খারাপ হলে হয়তো অন্য ভাইবোনের টাক নেই কিন্তু তিনি নিজে এমন জিন ক্যারি করে নিয়ে এসেছেন যেটার জন্য চুল পড়ে যাচ্ছে। 

এখন কিভাবে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে যে পদ্ধতি গুলো আজ আমি আপনাদেরকে বলবো এগুলো ফলো করলে আপনার চুল পড়া বন্ধ তো হবেই সেই সাথে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন : উকুন দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়

প্রত্যেকটি করনীয় বিষয় সম্পর্কে আমি ধাপে ধাপে বলবো প্রথমে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানবো এগুলো ঘরোয়া উপায়ে বানানো সম্ভব। আর আশা করি আপনার জন্য খুবই হেল্প হবে প্রাকৃতিক উপায় হল সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। 

যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না মাথায় নতুন চুল গজানোর প্রথম উপায় হলো মেসেজ করা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি নিয়মিত চুল মাসাজ করতে হবে এতে করে স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং স্কেল উন্নীত হবে। 

এর জন্য এক টেবিল-চামচ ভিটামিন ই অয়েল নিয়ে মাথায় মাসাজ করতে থাকুন ভিটামিন-ই চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন এর যোগান দেয়। ভিটামিন ই এর সাথে চায়ের নিরজাস যোগা করতে পারেন। 

এই দুটো ভালোভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙুলের সাহায্যে পুরো মাথার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে নিন এরপর পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। 

কিছুক্ষণ পর সাধারণভাবে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার  ব্যবহার করুন চুল গজানোর জন্য দিনে তিনবার এই নিয়মে মাসাজ করতে হবে। কিন্তু বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না এতে চুলের ক্ষতি হবে। 

এরপরে আছে রোজমেরি ল্যাভেন্ডার তেল এর ব্যবহার এটি চুলের যত্নে অন্যতম কার্যকরী একটি উপাদান যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এতে থাকা আমলকি নারকেল জলপাই জোজোবা ক্যাস্ট্রোর উপাদান চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে সেই সাথে নতুন চুল গজায়। 

এরপর আছে অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা রয়েছে এমন কিছু এনজাইম যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে চুল পড়লেও মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না অ্যালোভেরার উপকারিতা কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায় না। এতে উপস্থিত এর পিএইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। 

চুল পড়ার মাধ্যমে এবার চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে এটাকে ইউজ করবেন প্রথমে অ্যালোভেরার ভিতরে থাকা পরিমাণমতো জেল বের করে তার সাথে এক চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। 

তারপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে ফেলুন যদি চুলের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে তাহলে জেলের সাথে তেলের পরিমাণটা বাড়িয়ে নিতে হবে। চাইলে আপনি সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। 

এরপর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে হালকা গরম পানিতে ভালো করে মাথাটা ধুয়ে ফেলতে হবে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এইভাবে অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগালে আপনার চুল পড়া সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। 

আরেকটা হারবাল হেয়ার অয়েল আছে যেটা আপনারা ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করে অবশ্য ইউজ করবেন এটা চুল পড়া বন্ধ করবে। সাথে মাথায় যে টাকা পরছে সেটা কেউ বন্ধ করবে খুশকি কমাবে আর অকালপক্ক তার হাত থেকে রক্ষা করবে। 

সবার প্রথমে এক বাটি সরষের তেল নিন এরপর একটা মিডিয়াম সাইজের পেঁয়াজ নিন। হয়তো অনেকেই গন্ধের জন্য এটাকে এভয়েড করার কথা ভাবতে পারেন। 

কিন্তু একটু কম্প্রোমাইজ তো করতে পারেন এতে আপনার তো কোনো ক্ষতি নেই। যেখানে আপনার চুলের জন্য আপনার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আরও অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেখানে এটুকু তো করাই যায়। 

তাই এটাকে বানান আর ব্যবহার করুন আর হ্যাঁ পরিমাণটা অবশ্যই খেয়াল করুন তাহলে দুটো মিডিয়াম সাইজের পেঁয়াজ নেবেন এরপর পেঁয়াজ গুলোকে মোটা করে কুচি করে কেটে নেবেন এরপর সরষের তেল টাকে গরম করে তাতে পেঁয়াজ গুলো দিয়ে দিবেন। 

এবার পেঁয়াজগুলো হালকা গোল্ডেন ব্রাউন হয়ে এলে তাতে ১ চা চামচ মধু কালোজিরা দেবেন কালোজিরা চুলের জন্য ভীষণ উপকারী কালোজিরা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন আর পেঁয়াজগুলো কিন্তু আবার যেন পুড়ে না যায়।

 এবার পাঁচ মিনিট পরে এটাকে নামিয়ে ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দেন একদম ঠান্ডা হয়ে গেলে ছাকনি বা পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন আর ছেঁকে নিয়ে একটা খালি বোতলে রাখুন। 

এটা আপনি দুই তিন মাস সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এই তেল ব্যবহার করুন কথা দিচ্ছি পরিবর্তনটা আপনি নিজে থেকেই দেখতে পারবেন।

 এরপর আরেকটি জাদুকরী উপাদান আছে চুল পড়া আটকাতে মেথি দারুণ কাজে আসে আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে তখনই অল্প করে মেথি  এক গ্লাস পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। 

পরদিন বীজগুলোকে একটা পেস্ট বানাবেন সেটা ভালো করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে নেবেন টানা একমাস প্রতিদিন এই মিশ্রণটি মাথায় লাগালে চুল পড়া কমবে। সেইসঙ্গে মাথাভর্তি চুল স্বপ্ন পূরণ হবে।

 তবে শুধু তাই নয় চুল পড়া বন্ধ করতে ও চুলের গোড়া মজবুত রাখতে নিয়মিত বেশকিছু যত্ন নেয়া প্রয়োজন যেমন অবশ্যই চুলে তেল দিতে হবে। চুল পড়া বন্ধ বা চুলের যত্ন নিতে হলে অবশ্যই এটা করতে হবে।

 আর এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো নারকেল তেল নারকেল তেল চুলকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান করেতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে যা যে কোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে চুলকে রক্ষা করে। 

তাই সপ্তাহের যে করেই হোক একদিন চুলের তেল দিতে হবে বা সেম্পু করার আগে চুলে তেল মাসাজ করতে হবে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল কেবল সিল্ক হয় না এটি চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে মসৃণ করে তবে অবশ্যই চুলের ধরন বুঝে কন্ডিশনার বেছে নিতে হবে। 

এ ক্ষেত্রে ভিটামিন বি সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। অনেকে মনে করেন গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে চুল ভালো থাকে এটি একেবারেই ভুল ধারণা গরম পানি মাথার তালুর গুরুতর ক্ষতি করে এতে চুল দুর্বল হয়ে যায় তাই চুলে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযোগী। 

 চুল পড়ার অন্যতম কারণ যেমন ধরুন আপনি প্রতিদিন ফাস্টফুট খান একারণেও আপনার চুল পড়ে যেতে পারে। তাহলে এখন বলতে পারেন ফাস্টফুট এর সঙ্গে চুলপড়ার সম্পর্ক কি ফাস্টফুট যে ফ্যাট থাকে তাকে ট্রানস্ফারড বলে। 

আরো পড়ুন :  হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট এবং চুল পড়ার চিকিৎসার মধ্যে কী বেছে নেবেন

গবেষণায় দেখা গেছে ট্রানস্ফারড আমাদের শারীরিক অন্যান্য ক্ষতি করার পাশাপাশি হেয়ার রুট কে দুর্বল করে ফাস্টফুট খাওয়া যাবে কিন্তু পরিমিত পরিমাণে এজন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। 

চুল পড়া রোধে সাহায্য করে যেমন ভিটামিন ই যুক্ত সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ, চুলের জন্য খুবই উপকারী গরম বাতাস চুলের জন্য ক্ষতিকর কোন ধরনের গরম বাতাস বাহিত চুলে নেয়া যাবেনা এটি চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

আরেকটা টিপস  যদি আপনার খুব বেশি চুল পড়ে থাকে তাহলে একটা হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এর জন্য অ্যালোভেরা আমলকি শিকাকাই নিউরো একই পরিমাণ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দিতে হবে সপ্তাহে দু’দিন। 

এই প্যাকটি ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হবে। সহনীয় হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে আমি এতক্ষণ যেগুলো বললাম সেগুলো যদি নিয়মিত ইউজ করেন তাহলে আশা করি আপনি আপনার চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান পাবেন। 

 এগুলো শতভাগ ন্যাচারাল এবং কোন কেমিক্যাল নেই কম খরচে আপনি খুব সহজেই এটা ব্যবহার করতে পারবেন আর এগুলো অবশ্যই মহিলা-পুরুষ সবাই ইউজ করতে পারবে আপনি শুধু আপনার পছন্দমত যেকোন একটা চয়েস করে নিয়মিত ইউজ করুন তাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি এর উপকার দেখতে পাবেন ।