নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন – How to take care of a newborn

নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন

 

নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন

আমাদের পরিবারে যখন নতুন শিশুর আগমন হয় তখন আমরা খুব খুশি হই এবং শিশুর পিতা – মাতা ও পরিবারের সবাই কামনাকরি আমাদের সন্তান সুস্থভাবে বেড়ে ওঠুক ও পর্যাপ্ত মানসিক বিকাশ ঘটুক।  শিশুটি সঠিকভাবে বিকাশের জন্য নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন, জন্ম থেকেই প্রতিটি মুহুর্তে তাকে সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।  নবজাতক শিশুটিকে স্বাস্থ্যকর এবং স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। 

 ১. নবজাতকের খাবার 

শিশুর যত্নে করণীয় মায়ের দুধ শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।  যখন সে ক্ষুধার্ত থাকে, তখন সে সাধারণত কাঁদে বা আঙ্গুল মুখে দিয়ে স্তন্যপানের শব্দ করে থাকে।  শিশুর জন্মের ৬ মাস অবধি শুধু মায়ের বুকের দুধই পান করে থাকে এবং ৬ থেকে ১২ মাসের জন্য বুকের দুধর পাশাপাশি অন্যান্য খাবারের সাথে বুকের দুধ খাওয়ানো বাধ্যতামূলক।  এটি শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করে।

 

আরো পড়ুন – বাচ্চাদের খাবারে রূচি বাড়ানোর উপায়

নবজাতককে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘন্টা অন্তর খাওয়ানো উচিত। যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তবে আপনাকে একবারে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।  যদি  বোতল থেকে খাওয়ানো হয় তবে আপনাকে প্রতিবার ৬০ থেকে ৯০ মিলিলিটার দুধ খাওয়াতে হবে।

২. শিশুর স্নান ও যত্ন

নবজাতকের স্নান প্রাথমিক পর্যায়ে খুব একটা পছন্দসই নয় তাই এটি একটি আরামদায়ক স্নানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যদি শিশুটি ক্ষুধার্ত হয় বা খাওয়ার সাথে সাথে স্নান করা উচিত নয়। একটা বড় গামলায় ২ থাকে ৩ ইঞ্চি উষ্ণ জলে সাবধানে ৮ থেকে ১০ মিনিটের জন্য  স্নান করান। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার  স্নান করানো নবজাতকের পক্ষে যথেষ্ট।

নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন

নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন

 

৩. যথেষ্ট ঘুম

নবজাতকের জন্য পরিমিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতকরা একবারে ২ থেকে ৪ ঘন্টা করে ঘুমায় এবং দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা। নবজাতক দিন ও রাতের পার্থক্য জানে না তাই ঘুম থেকে ওঠার পরে  সাধারণত খেতে চায় এবং কিছুক্ষণ পরে আবারো ঘুমিয়ে যায় ।

শিশু সাধারণত  হালকা ঘুম এবং গাঢ় ঘুম দুই ধাপে প্রায় ৪০ মিনিট করে চক্রাকারে ঘুমিয়ে থাকে।  হালকা ঘুমের পরে কিছুক্ষণের জন্য ঘুম থেকে উঠে এরপর মুখে একটু শব্দ করে আবার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পরে এবং গভীর ঘুমের জন্য আরামদায়ক বিছানা ও শান্ত পরিবেশ বাধ্যতামূলক।  নবজাতকের সাধারণত রাতে ২  থেকে ৩ বার খেতে জেগে উঠে ।



৪. নবজাতকের সাথে সময় কাটাতে

সন্তানের সাথে আন্তরিকতা তৈরি করতে পিতামাতার যথাসম্ভব সময় ব্যয় করা উচিত। নবজাতকের শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম হয় , সুতরাং তার কাছাকাছি আসা প্রত্যেক ব্যক্তি পরিষ্কার হওয়া উচিত। বাচ্চাটিকে আপনার কোলে নিয়ে যাওয়ার সময়, একটি স্থিতিশীল এবং আরামদায়ক অবস্থান তৈরি করার জন্য আপনার হাতটি শিশুর মাথার পিছনে রাখা উচিত যাতে ঘাড়ে কোনও চাপ না পড়ে।

নবজাতকে কখনই কাঁপানো উচিত নয়।  এটি শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।  কোন অবস্থাতেই মজা করে হলেও শিশুকে কখনো ঝাঁকুনি দেওয়া বা শূন্যে লোফালুফি করা যাবেনা।  শিশুকে বহন করার সময় তার সুরক্ষার সম্পর্কে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. নবজাতকের টিকা

নবজাতকের টিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  সুতরাং নবজাতকের টিকা চার্টটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নবজাতকের টিকার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান সেখান থেকেই টিকার করনের জন্য একটি কাড দেয়া হবে এবং সময় মতো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে নবজাতকের টিকা দেয়া জরুরি। আরো বিস্তারিত জানতে অবশ্যই শিশু ডাক্তারের ( Child Specialist ) পরামর্শ নিন ধন্যবাদ!