পরিশ্রম করে কেউ বড় হতে পারে না, বড় হতে এই ৪ টি কথা মাথায় রাখুন

পরিশ্রম করে কেউ বড় হতে পারে না, বড় হতে এই ৪ টি কথা মাথায় রাখুন

বন্ধুরা চাণক্য পন্ডিতের মতে আমাদের জীবনের সাফল্য এবং উন্নতি হাসিল করতে পরিশ্রম তো করতেই হবে। কিন্তু এর মানে এটা একদমই নয় যে আপনি গাধার মত খাটতে শুরু করুন। কারণ একটি গাধা তার জীবনের সবথেকে বেশি পরিশ্রম করে এবং এই একই রকম পরিশ্রম কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়া কন্টিনিউ করেই যায় আর সে একবারও ভাবে না যেই কাজটি করে সে আদৌ পর্যাপ্ত রেজাল্ট পাচ্ছে না।

অর্থাৎ রেজাল্টের এক্সপেক্টেশন ছাড়াই নিজে হার্ডওয়ার্ক করেই কাটিয়ে দেয় অর্থাৎ অন্যের গোলামী করতে থাকে। সে কখনোই একজন রাজা হতে পারে না আরো একইভাবে বহু মানুষ সারাজীবন নিজের কাজকে আইডেন্টিফাই না করে গাধার মতো কঠোর পরিশ্রম করতে থাকে কিন্তু তারাও আলটিমেটলি জীবনভর অন্যের গোলাম হয়ে থেকে যায় তারা কখনোই জীবনকে সঠিক ভাবে উপভোগ করার চান্স পায়না।

বন্ধুরা আজ আমি আপনাদেরকে চাণক্য পন্ডিতের অদ্ভুত কিছু বানী শেয়ার করবো যা আপনাকে গাধার খাটনি থেকে বেরিয়ে এসে লাক্সারিয়াস লাইক পেতে হেল্প করবে তাই আজকের এই প্রতিবেদনটি অবশ্যই মনযোগ দিয়ে পরুন।

১. প্রথমে তিনি বলেছেন প্রত্যেক পশু-পাখিকে জীবনধারণের জন্য স্বীকার করতেই হয়। যার মধ্যে কিছু সময় তারা সফল হয় আবার কিছু কিছু সময় অসফল হয়ে যায়। কিন্তু ওই জঙ্গলে এমন এক শিকারী ও আছে যা কখনোই বিফলে যায়না আর সেই সেকারিটি হল বাজপাখি। তার কারণ হলো বাজপাখি শিকারকে দেখা মাত্রই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে না। সে তার স্বীকার এর উপর নজর রাখে ঘন্টার পর ঘন্টা এমন কি একটা পুরো দিন নিরন্তর শিক্ষার ওপর নজর রেখে এবং সঠিক সময় এলে সে তার সমস্ত শক্তি একত্রিত করে এক ঝাপটা সে তার শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এবং সেই সময়ে সেই শিকারের পালাবার কোন পথ থেকে না।

এই একই ভাবে যদি আপনি আপনার জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে সফল হতে চান। তাহলে ধৈর্য এবং বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এমন প্রবল রণনীতি তৈরি করতেই হবে আর সঠিক সময়ে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজের লক্ষ্যের উপর এমন প্রহার করতে হবে যাতে সফলতা আপনার হাতে এসে ধরা দেয়। এমন কিছু লোক আছে যারা তাদের লাইফে কোনো রকম প্ল্যানিং স্ট্র্যাটেজি ছাড়াই লক্ষ্যের দিকে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে যার কারণেই তারা কোনো কাজেই সফল হতে পারেন না। আর পুরো লাইফ গাধার মত খেটে কাটিয়ে দেয়। বন্ধুরা তাহলে এখনই সতর্ক হয়ে যান না হলে তো আপনাকেও আফসোস করতে হতে পারে।

পরিশ্রম করে কেউ বড় হতে পারে না, বড় হতে এই ৪ টি কথা মাথায় রাখুন

২. বনের রাজা সিংহ কিন্তু সংহ যখন স্বীকার করতে বেরোয় তখন সম্পুর্ন প্রকাশ এবং শক্তি লাগিয়ে দেয়। অর্থাৎ স্বীকার কোন বরো হরিন হোক বা হরিণের বাচ্চা তার স্বীকার করার প্রবণতা কম হয়ে যায় না শিকার বড় হোক বা ছোট সিংহ তার সমস্ত শক্তি তার ওপর ভর করে আর তখন যেন মনে হয় ওটাই তার জীবনের শেষ শিকার। তাই যদি আপনিও জীবনের যে কোন ফিল্ডে অসীম সাফল্য লাভ করতে চান তাহলে এই নীতিটি আপনাকেও কাজে লাগাতে হবে। অর্থাৎ আপনার টার্গেট বড় হোক বা ছোট যতক্ষণ আপনার নিজের ১০০% সেই কাজটায় না দেবেন আপনি কখনই স্যফল হতে পারবেন না।

৩. সাপ পা না থাকা সত্ত্বেও তারা আক্রমণ করার ক্ষমতা আর ছোবল মারার দ্রুত তার মধ্যে সেটা প্রকাশ পায় না সে কখনোই তার দুর্বলতা কারো সামনে আসতে দেয় না। সে কখনোই কাউকে বুঝতে দেয় না যে তার কাছে পা নেই। এবং সে তার দুর্বলতা ছেড়ে শিকারের উপর ফোকাস করে আর এই কারনেই আমরা সাপকে ভয় পাই যে সাপ দেখলে আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কিন্তু সাপ চাইলে নিজের দূর্বলতা বাহানা দিতে পারতো আমার তো কপাল খারাপ ওপরওয়ালা আমাকে পা দিয়েনি এমনকি আমার চোখে এত দুর্বল যে আমি ঠিকমত দেখতেও পাইনা। কিন্ত না সাপ এরকম কোনো বাহানা না বানিয়ে নিজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শরীরের উপর ভর করে সামনে এগিয়ে যায়। আর চোখ কমজোর হলেও তার জিভকে কাজে লাগিয়ে শিকারের খোঁজ করে নেয়। আর একজন যোদ্ধার মতোই সে কখনো সামনে এগিয়ে যেতে ভয় পায়না।

ঠিক একইভাবে পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু দূর্বলতা থেকে। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের দুর্বলতা কে পেছনে ফেলে নিজের পজিটিভ পাওয়ার গুলিতে প্রকাশ করেন সেই ব্যক্তিই এক সময় অবশ্যই স্যফল অর্জন করে।

৪. টুরিস্ট গাইড এর কাজ করা একজন সাধারণ ছেলে ছোট্ট একটি চাকরির জন্য ৩০ বার ইন্টারভিউ তে ফেল হওয়া সাধারন ছেলে বর্তমানে চীনের সবথেকে ধনী ব্যক্তি। alibaba.com এর ফাউন্ডার কথাই বলছি এটা ভাগ্যের নয় বরং তার পজিটিভ আর কিছু করার রেজাল্ট মাত্র যেখানে আপনাকে পাগল বলতে শুরু করে।

আরো পড়ুন: শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার কিছু টিপস

আর এমন পাগলামি দেখা যায় নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি এই ব্যক্তির জীবনের স্বপ্ন ছিল হিরো হওয়ার। কিন্তু তার না ছিলো রুপ, না বড় শরীর না ছিল কোন পরিচিতি কিন্তু এই লোকটির ভেতরেও সেই একই অ্যাটিটিউড শিরায় শিরায় ভরা ছিল। তার জেদ পাগলামি পাগলামি ছিল হিরো হওয়ার পাগলামি ছিল এক্টিং করার পাগলামি ছিল আল্টিমেট সার্চ করার যার কারণেই তিনি দিনের বেলায় সিকিউরিটি গার্ডের জব করতেন তিনবেলা খাবার খাওয়ার জন্য এমনকি এই লোকটি ১৪ বছর কাটিয়ে দেয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার ট্যালেন্ট কে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে।

আর তার এই পাগলামি এই যে সমস্ত দুর্বলতাকে সাইডে রেখে বর্তমানে তাকে এমন স্থানে পৌঁছে দিয়েছে যে বর্তমানে ভারতের প্রত্যেক বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই তাকে চেনেন। আর এটাই আসল রিয়েলিটি এখন আপনি আপনার দুর্বলতা থাকে পেছনে ছেড়ে আপনার টার্গেট ওপর সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পরুন।

আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে পৃথিবীর কোন মানুষই ট্যালেন্ট সঙ্গে নিয়ে জন্মায় না প্রত্যেকে নিজের ট্যালেন্ট ক্রিয়েট করতে হয় ঠিক যেমন শোনা প্রথমে একটি হলুদ ধাতু থাকে কিন্তু যখন স্বর্ণকার এটির ওপর প্রহার করে আগুনে পুড়িয়ে চমক নিয়ে আসে। তখনই তার আসল মূল্য বোঝা যায়। আর ঠিক একইভাবে যতক্ষণ আপনি নিজের যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ না করছেন দুনিয়ার সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে না পারছেন ততদিন অন্য কারো গোলাম হয়ে আপনাকে থেকে যেতে হবে।

কিন্তু সাধারণ মানুষেরা চাণক্য পন্ডিতের এই মহান নীতিগুলি বুঝেও না বোঝার মতো আচরণ করতে থাকে যার কারণেই তারা তাদের জীবনে গোলাম হয়ে থেকে যায় তো বন্ধুরা চাণক্য পন্ডিতের এই চারটির মধ্যে কোনটি আপনি আজ এই মুহূর্ত থেকেই নিজের লাইফে এপ্লাই করতে চলেছেন তা কমেন্ট করে আমাদেরকে অবশ্যই জানান ধন্যবাদ ।