প্রেম টিকিয়ে রাখার ৭ টি কৌশল

প্রেম টিকিয়ে রাখার ৭ টি কৌশল

জীবনের সবচেয়ে সন্তোষজনক জিনিস প্রিয়জনের উপস্থিতি।

সুতরাং, প্রিয়জনের সাথে মিষ্টি মধুর সম্পর্ক বজায় রাখা একটি কঠিন কাজ।

তাই আজকের এই প্রতিবেদনে এমনই ৭টি কৌশল শেয়ার করবো যা মেনেচলে আপনার প্রেমময় মধুর সম্পর্ক বজায় থাকবে বহু দিন।

জেনে রাখুন ভালবাসা অটুট রাখতে এই বিষয়গুলি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

  ১. ঝগড়া – কলহ কে ভয় নয়।

আপনি যদি একসাথে থাকতে চান তবে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বা অহংকার হবেই।

ঝগড়াহীন সম্পর্ক সাধারণত সম্ভব নয়।  সুতরাং প্রেমের সম্পর্ক মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়েই থাকে এই নিয়ে ভয় পয়ার কিছুই নেই।

এছাড়াও, কারোর মত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কিছুটা মতপার্থক্য হতেই পারে। একটি সম্পর্কের মধ্যে মতপার্থক্য সবসময় খারাপ জিনিস হয় তা কিন্তু নয়।

অনেকে বলেন যে দুজনের মধ্যে মান অভিমান যুগলের সম্পর্ক আরও মধুর করে তোলে।

তবে ঝগড়া হলে একে অপর কে দোষারোপ না করে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা দরকার।

বরং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন আপনি নিজে কী ভুল করেছেন এবং আমি কীভাবে ভুলগুলি সংশোধন করতে পারি।

২. একসাথে আনন্দ উপভোগ করুন।

সম্পর্কের অর্থ একসাথে বাজারে  যাওয়া এবং ঘর পরিষ্কার করা বা রান্না করা তা কিন্তু নয়।

নিজেকে উপভোগ করতে আলাদা কিছু করুন।  যেমন ছুটির দিনে এক সঙ্গে ঘুরতে বেরন, রেস্টুরেন্ট যান বা কোনও সিনেমাতে যেতে পারেন।

এবং সবার পখে সবসময় বেড়াতে যাওয়া সম্ভব হয়ে না সে ক্ষেত্রে  আপনি ঘড়ে থেকেও উপভোগ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করতে হবে।  একসাথে খাওয়া, বেড়াতে যাওয়া বা অন্য কোনও কিছু হোক না কেন।

৩. আপনার মনের কথা স্পষ্টভাবে বলুন।

ঝগড়া অন্যতম প্রধান কারণ হ’ল সমস্ত কিছু মনে মনে রাখা পরিস্কার করে সমস্যা কথা না বলা।

বিশেষত মেয়েরা এই কাজটি বেশি করে।  মনে মনে কোনও কথা বা প্রশ্ন না লুকিয়ে এটিকে সরাসরি আপনার সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করুন।

এটি অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা বা ভুল বুঝাবুঝিকে কম করবে।  এমনকি আপনি যদি কিছু ভুল বা অন্যায় করে থাকেন তবে তা নিজেই শিকার করুন প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে নিন।

এবং আপনি যদি সরাসরি কথা বলতে না পারেন তবে আপনি একটি এসএমএস বা একটি চিরকুট দিয়ে পারেন।

  ৪. সুন্দর মুহূর্তগুলো উদযাপন করুন।

হাসি-কান্না, আনন্দ সব মিলিয়ে আমাদের জীবন তাই আবার সুযোগ কখন আসবে কে জানে!  তাই আপনি যখনই মজা করার সুযোগ পান, উপভোগ করুন। কে জানে, ভবিষ্যতে এমন সুখের মুহূর্ত আর আসবে কি না।

আপনার বা আপনার সঙ্গীর জন্মদিন হোক, বিয়ের দিন হোক, যাইহোক না মন খুলে সেদিনটি উপভোগ করুন।

  আপনি যদি চান তবে নিকটবর্তী স্থান থেকে একসাথে ঘুরে আসুন।

আপনার মন যত ভাল থাকবে সম্পর্ক তত মজবুত হবে ।  এই সুখী দিনগুলি আপনার দম্পতির জীবনে টনিকর মত কাজ করবে।

এই সুখী মুহূর্তগুলি আপনাকে খারাপ সময়গুলি কাটাতে সহায়তা করবে।

আরো পড়ুন : পুরুষের যে ৭টি গুণ মেয়েদের বেশী আকৃষ্ট করে

৫. নিজেকে মেলে ধরুন।

আড়ষ্ঠতা যেকোনও সম্পর্ককেই বাড়তে দেয় না।  সুতরাং আপনি যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে আপনি বিশ্বাস করছেন তার কাছে নিজেকে মেলে ধরুন।

আপনার সঙ্গীর আপনার দুর্বলতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ সম্পর্কে বলুন এবং তার কাছে সহায়তা চান।

আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার সঙ্গীও এটি করবে।  অযথা নিজেকে আড়াল করবেন না এবং সম্পর্কের মাঝখানে একটি প্রাচীর তৈরি করবেন না।

একজন গবেষক বলেছেন, “আমি হাজার হাজার মানুষের সাক্ষাত্কার নেওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে একে অপরের  দুর্বলতাগুলো বিনিময় না করে শারীরিক-মানসিক-আধ্যাত্মিক ঘনিষ্ঠতা কখনই জন্মগ্রহণ করে না। ‘

৬. একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।

আমরা প্রায়শই আমাদের প্রিয়জনকে খুব একটা গুরুত্ব দিয় না ।  তা কখনোই করবেন না বরং তাকে স্বীকৃতি দিন, তার প্রতি সদয় হোন।

প্রয়োজনে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দ্বিধা করবেন না।  যদি তিনি অসুস্থ হন তবে তার যত্ন নিন, তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

এই মুহুর্তে, যদি কিছুটা বিরক্ত হয় , তবে এটি গায়ে মাখবেন না।

এছাড়াও তাদের বিশেষ দিনগুলিতে নজর রাখুন। যেমন আপনি তার জন্মদিনে বিশেষ কিছু গিফট দিন বা তার পছন্দসই কিছু তৈরি করে চমকে দিতে পারেন।

এই জাতীয় ছোট জিনিস দম্পতির জীবনকে সুন্দর করে তোলে এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে তোলে।

৭. স্বপ্নের মানুষ’

পুরুষ বা মহিলা, সবাই একজন ‘স্বপ্নের মানুষ’ খুঁজছেন।

এই চিন্তা করেই, বহু লোক তাদের বৈবাহিক জীবনকে চরম অশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।  সত্য কথা বলতে গেলে এরকম স্বপ্নের মানুষ বলতে কিছু নেই।

যে আপনার পাশে সবসময় আছে, বিপদ আপদে আপনাকে আগলে রেখেছে, যাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আপনার ভালবাসার জীবন, সেই তো আপনার স্বপ্নের মানুষ।

তাকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসুন, তাকে আপনার স্বপ্নের অংশীদার করুন।

আপনি বিয়ের আগে কি ভাবতেন সেইসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন । জীবনটা তো সিনেমা নয় তাই না। তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হন এবং দায়া করে সুখে থাকুন।

বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।