বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার


বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপনি কি জানেন গত 40 বছরের ব্যবধানে মানুষের শরীরে স্পার্মের সংখ্যা 50 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আজকের বিষয়বস্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় সাথে সাথে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা অনেক কমে যাচ্ছে কিন্তু কেন এমন ঘটছে আমাদের শরীরের সাথে।

সেই 1982 সাল থেকে মানুষের শরীরের টেস্টোস্টেরন লেভেল কমতে শুরু করেছে হাজার 1970 সাল থেকে 2011 সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় 40 হাজার মানুষের উপর কড়া 185 গবেষণায় দেখা গেছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্প্যাম একাগ্রতা শতাংশ কমে গেছে এবং সর্বোপরি সংখ্যা 59 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

40 বছর বয়সের আগেই 26 শতাংশ মানুষ এখন ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগে থাকেন হাজার 1966 সালে 1 টেবিল চামচ পরিমাণ সিমেনের পরিমাণ ছিল 99 মিলিয়ন 2011 সালে যে পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র 49 মিলিয়ন এ আর এর ফলে প্রতি চারজনে একজন সন্তান জন্মদানে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে হাজার 1960 সালের দিকে যদি ফিরে যায় তবে প্রতিটি দম্পতির সন্তান জন্মদানের পরিমাণ ছিল পাঁচটি আর সেই সংখ্যা এখনকার দিনে এসে দাঁড়িয়েছে 2 থেকে 2.5 আরে।

এখন চলুন জেনে নেই কেন এমন হচ্ছে। তিনটে জিনিস সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে এই সমস্যার পেছনে প্লাস্টিক এবং দৈনন্দিন প্রোডাক্ট আমরা ব্যবহার করছি এই গুলোতে যে ক্যামিকেল রয়েছে তাকে বলে EDC অর্থাৎ endocrine disrupting chemical এটি আমাদের শরীরের হরমোন সিস্টেমের উপর প্রভাব বিস্তার করে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল এটি আমাদের দেহের হরমোন সিস্টেম কে ভেঙে ফেলতে পারে।

[আরো পড়ুন: ধূমপান ছেড়ে দিলে কি পরিবর্তন ঘটবে আপনার শরীরে ]

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কোন কোন জিনিসের মাধ্যমে এই কেমিক্যাল পাওয়া যায় এটি যেকোন নরম প্লাস্টিক, সাবান, হেয়ার স্প্রে, বডি স্প্রে, চুলের জেল, মেকআপ সামগ্রী, পানির প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি আরো অনেক কিছুতেই পাওয়া যায় একটি গবেষণায় এসেছে ঘরের ব্যবহার্য ৭২ টি প্রোডাক্ট এর ভেতরেই কেমিক্যাল বিদ্যমান যা কিনা আমাদের শরীরের সাথে মিশে আমাদের স্পাম কাউন্টকে কমিয়ে দিচ্ছে।

এবার চলুন আরেকটি ক্ষতিকর জিনিস BPA সম্পর্কে জেনে নেই এটিও পাওয়া যায় ননস্টিক কড়াই, চকলেটের মোড়ে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক জিনিসে যেসব পুরুষরা বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজ করে তাদের মূত্র পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের মূত্রে BPA এর পরিমাণ অনেক বেশি যা কিনা চারগুণ হারে স্পাম রাস করে থাকে এটি যে শুধু স্পাম কাউন্টকে কমায় তানয় নয় এটি প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশনের জন্য দায়ী।

এছাড়াও আরো অনেক কিছু আছে যা এই সমস্যার জন্য সরাসরি দায়ী যেগুলো কিনা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে প্লাস্টিক ছাড়াও আরো কিছু অভ্যাস আমাদের স্পাম অংশের সাথে সরাসরি জড়িত। ধূমপান করলে আমাদের স্পার্মের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে এছাড়াও এটি আমাদের টেস্টেস্টেরন হরমোন কমিয়ে দেয় এবং স্পার্ম থেকে সন্তান ধারণের হার কমিয়ে দেয়।

বাচ্চা না হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আর যেহেতু মহিলাদের থেকে পূরুস কয়েক গুণ বেশি ধূমপান করে তাই পুরুষের ফার্টিলিটির হার মহিলাদের তুলনায় অনেক কম শুধু সিগারেট নয় যারা গাজা সেবন করে তাদের এই হার আরো কম ডেনমার্কে ১০১৫ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে সপ্তাহে মাত্র একবার গাঁজা সেবন করলে স্পার্ম কাউন্টারে হার ২৯ শতাংশ কমে যায়।

এছাড়াও যারা অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ করেন তাদের স্পার্মের পরিমাণ হ্রাস পায় এমনকি বর্তমান সময়ের কৃষিতে আমরা যে কীটনাশক ব্যবহার করি এবং তার ফলে যে খাদ্য উৎপাদন হয় সেই খাদ্য আমাদের শরীরে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে অনেক পরীক্ষা এসেছে হাজার ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর পুরুষের টেস্টোস্টেরন লেভেল ১ শতাংশ করে কমে যাচ্ছে তাহলে এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কি।

[আরো পড়ুনযেসব লক্ষণে দেখে বুঝবেন সন্তান মিথ্যা বলছে ]

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর ইঁদুরের উপর গবেষণা করে দেখেছেন যে ক্যামিকেল এক্সপোজারের ফলে রিপ্রোডাকশন সিস্টেম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া একটি ইঁদুরে ন্যাচারাল পরিবেশে ১ থেকে ২ বছর রাখা হলে তাদের রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম আবার ইন্সটল হতে দেখা গেছে। যেহেতু তাদের লাইফস্পান আমাদের থেকে অনেক কম তাই মানুষের ক্ষেত্রেও রিয়েস্টার সময় বেশি লাগবে সুতরাং এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লাইভ স্টাইল চেঞ্জ এর কোন বিকল্প নেই।

প্রথমে আপনার মাংস এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। ফাস্টফুড যত দ্রুত সম্ভব অ্যাভয়েড করা উচিত বিশেষ করে যেগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেজিং এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। যারা বাইরের খাবার বেশি খায় তাদের ৫৫% কেমিক্যাল গ্রহণের ঝুঁকি বেশি থাকে আপনি যদি ননস্টিক প্যান ব্যবহার করে থাকেন। তবে আপনার উচিত হবে হিট কমিয়ে দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করা।

খাবারে যত বেশি প্যাকেজিং হবে ততই আপনার শরীরে কেমিক্যাল এর প্রভাব বাড়িয়ে দেবে যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান পরিহার করতে হবে। কেননা ধূমপায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইনফার্টিলিটি সমস্যা দেখা যায় এছাড়াও এদের পুরুষাঙ্গ ছোট হয়ে যাওয়া একটি কমন সমস্যা সুতরাং সুষম খাবারের পাশাপাশি লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

আমরা বিশ্বাস করি পরিবারের সদস্যরা সর্বদা নিজের জীবনের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য প্রস্তুত থাকে এবং তারা এই কারণে আমাদের প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত পড়ে আসছে সকলের সুস্থতা কামনায়
আর্টিকেল টি শেষ করলাম।