ভাত না ছেড়ে ভুঁড়ি কমানোর টিপস

ভাত না ছেড়ে ভুঁড়ি কমানোর টিপস

বেশি ভাত খাওয়া আপনার ওজন বাড়িয়ে দেয়  এটিই সমস্ত ডায়েটশিয়ানদের নির্ধারণ।  তবে ভেতো বাঙালির ভাতের মায়া ছাড়া মোটেও সহজ নয়। আগে কার বাঙালি পরিবারগুলিতে গরু লালন-পালনের প্রচলন ছিল।সেই থেকেই বুঝতেই পারছেন দুধে ভাতে বাঙালি।

পুষ্টিবিদের কথা হচ্ছে যে আপনি যদি দিনের বেলা ভাত ঘুম দেন তবে আপনার পেটের ভুড়ি অবশ্যই বাড়বে। আর যদি এমন হয় আপনি মোনভোরে ভাত খান আর আপনার ওজন একই থাকে! আহ্লাদে আটখানা হবেন নিশ্চই। তাই আজকে এমনই কিছু টিপস শেয়ার করবো যার সঠিক নিয়ম মেনে চললে বেশি ভাত খাওয়ার পরেও আপনার ভুড়ি বাড়বে না।

১. ভাত পুষ্টি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক চালের সাধারণ পুষ্টির মানগুলি কী এবং আমাদের শরীরের জন্য এটি কতটা স্বাস্থ্যকর?

১০০ গ্রাম ভাতে ৩৪০ ক্যালরি শক্তি উত্পাদন করে।  এতে প্রায় ৬ গ্রাম ফ্যাট, ৭৫ গ্রাম ফাইবার, ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং অন্যান্য দ্রাব্য ও অদ্রাব্য ফাইবার উপস্থিত রয়েছে।

তবে এটিতে এমন স্টার্চ রয়েছে যা দেহে গ্লুকোজ বিশ্লেষিত করে এবং অগ্ন্যাশয়ের কাজকে ব্যহত করে।  রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায় যা ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ঠিক একই , ১০০ গ্রাম আটাতে ভাতের হিসাবে একই পরিমাণে ক্যালোরি থাকে।  সুতরাং আপনি যদি দিনে দুই বারে ১৫০ গ্রাম ভাত খান তবে এটি ৫০০  ক্যালরি বার্ন করে না।  আপনি কীভাবে প্রতিদিন ২০০০ ক্যালরি জমা করতে পারেন সেদিকে মনোযোগ দিন।

ভাত সহ সালাদ, স্যুপ, মাছ ইত্যাদির সুষম খাদ্য বজায় রাখুন যাতে পেটে অতিরিক্ত মেদ জমতে না পারে।

ভাতের গ্লাইকোজেন খুব তাড়াতাড়ি শরীরে গলে যায় তাই ভাত অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট খাদ্যের থেকে প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে।

২. ভাত ঘুমের কারন।

ভাত যখন পেটে পড়ে তখন মস্তিষ্কে একটি আনন্দ অনুভূতি তৈরি হয় যা ঘুমের আবেগ নিয়ে আসে।  ফলস্বরূপ, ভাত খাওয়ার পরে ঘুমের চাহিদা বারে। তাই অফিসে ১০-১৫ মিনিট বা বাড়িতে ১ ঘন্টা ফাঁক পেলেই একটু ঝক্কি মেরে নেয়।

সাম্প্রতিক গবেষণা দেখা গেছে ভাত ঘুমের সময় আমাদের শরীরে লেপটিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে যায় ।  যাতে খিদে অনুভব করার অনুভূতি বেড়ে যায় এবং ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, আমেরিকান কার্ডিওলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অনুসারে, ভাত উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের মাপ বাড়ার সম্ভাবনা কমকরে ৩০% এর উপরে। অর্থাৎ পক্ষে ও বিপক্ষে দুদিকেই প্রমান কিন্তু মজুত।

ভাত না ছেড়ে ভুঁড়ি কমানোর টিপস

  ৩. ভাত উপকারী হবে যেভাবে।

দেখুন, কোনও জিনিসের ভালো, মন্দ তার ব্যবহার এবং কৌশলের উপর নির্ভর করে।  ভাতও এর ব্যতিক্রম নয়।  তাই ভাতের উপকারী দিকগুলি দেখুন এবং সেই অনুযায়ী ডায়েট বজায় রাখুন –

ভাতে ট্রান্স ফ্যাট বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে না তাই কোলেস্টেরল বাড়ানোর কোনও চাপ নেই

  ভাত হ’ল কম ফ্যাটযুক্ত এবং উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার যা সোডিয়াম এবং গ্লুটেনের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে না।  বরং ভাতের বিকল্প হিসেবে আমরা যে খাবারে খাই অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবার বা তেল জাতীয় খাবার থেকে ভুঁড়ি বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর মানুষদের ৬০-৭০% ক্যালরি আমাদের খাবার থেকে পাওয়া উচিত।
যা ভাত থেকে পাওয়া যায়।

ভাত হিসাবে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বাছুন।  এতে স্বাভাবিক পালিশ করা ভাতের চেয়ে বেশি থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পাইরিডক্সিন এবং ফলিক অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে পুরো শস্যের চাহিদা ২-৩ পূরণ করতে সক্ষম।

আরো পড়ুন ব্যায়াম ছাড়াই ভুঁড়ি কমানোর উপায়

  ৪. ভাত রান্নার প্রধতি

ভাত খাওয়ার পরে যাতে আপনার ওজন না হয় সে জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতিতে ভাত রান্না করা গুরুত্বপূর্ণ।

ঘন ঘন চাল ধোবেন না। এতে এর ভিটামিন এবং খনিজগুলি বের হয়ে যায়।

কম জল দিয়ে একটা হাঁড়িতে ভাত রান্না করন। ভাতের ফ্যান গালবেন না। চাইলে ফোটানো গরম জলে ভেজা চাল ও দিতে পারেন। সবথেকে ভালো উপায় প্রেশার কুকারেও ভাত রান্না অরা।

  ভাত হয়েগেলে ঠাণ্ডা করুন।  এটি স্টার্চকে হিমশীতল করবে এবং কম ভাত খেয়ে আপনার পেট ভর্তি হবে।

৫. ভাত খাওয়ার কিছু নিয়ম।

ভাতের সাথে সালাদ এবং শাকসবজি যুক্ত করুন এটি ডায়েটে ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং অতিরিক্ত ভাত খাওয়া কমিয়ে দেবে।

খাবার খাওয়ার পরে ঘুমোবেন না। ১৫-২০ মিনিটের জন্য হাঁটুন।  এটি তন্দ্রা হ্রাস করবে এবং তাত্ক্ষণিকভাবে চর্বি জমা করার সুযোগ দেবে না।

ভাত ঘুম কাটাতে ভাত খাবার পর কফি খেতে পারেন।

তরকারি দিয়ে ভাত মেখে খান।  ভাত দিয়ে তরকারি নয়। তাই ভাত নেওয়ার সময় এটি একটি প্লেটে পরিমাপ করুন।  বার বার ভাত তুলবেন না।

বন্ধুরা এমনই কিছু ঘরোয়া নিয়ম মানলে খুব সহজেই আপনারা ভাত খাওয়া নাছেরেই ভুড়ি কমাতে পারবেন ।বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে ফেসবুকে শেয়ার করুন ধন্যবাদ ।