মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

দিন দিন মশার উপদ্রব বাড়ি চলেছে । এরা আকারে খুবই ছোট হলেও এই পোকার যন্ত্রণায় অনেকেরই রাতে ঘুম হারাম হয়ে যয়ার জগার। শুধু কি তাই, দিনের বেলাও এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। এতটুকু হলেও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যেত। কিন্তু বিরক্তিকর উপদ্রব ছাড়াও, মশা বিভিন্ন সংক্রামক রোগজীবাণু বহন করে। যা কখনও কখনও একজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়াসিস, হলুদ জ্বর, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আসুন জেনে নেই মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ এবং ঘরোয়া কিছু উপায় ।

১. পুদিনা পাতার ব্যবহার:

পুদিনা পাতা অনেক ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। উপকারী এই পাতা আমাদের পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এটি মশা তাড়াতেও খুব কার্যকর। একটি গ্লাসে কিছু জল নিয়ে তাতে কিছু পুদিনা গাছ রাখুন এবং খাবার টেবিলে রাখুন। পরপর তিন দিন জল পরিবর্তন করুন। জার্নাল অফ বায়োরসোর্স টেকনোলজিতে গবেষণায় বলা হয়েছে যে পুদিনা পাতা মশাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। মশা ছাড়াও আরও অনেক পোকামাকড় পুদিনার গন্ধ থেকে অনেক দূরে থাকে। পুদিনা পাতা সেদ্ধ করে সেই জল সারা বাড়িতে ছড়িয়ে দিন। এতেও পুদিনার গন্ধে মশা পালিয়ে যাবে।

২. হলুদ আলো:

আমরা জানি বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু জানেন কি ঘরে হলুদ আলো মশার প্রকোপ কমায়? আপনি একটি বৈদ্যুতিক আলোর চারপাশে হলুদ সেলোফেন মোড়ে দিতে পারেন। এতে হালকা রঙ হলুদ হবে। আর এই হলুদ আলো মশাকে দূরে রাখবে। যদি প্রতি সন্ধ্যায় এই রঙের আলো জ্বালানো হয়, তাহলে আপনি মশার আক্রমণ থেকে দারুণ স্বস্তি পাবেন।

৩. চা পাতার ব্যবহার:

চা পাতার ব্যবহার কি? প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে ভাবছেন, চা পাতা ব্যবহার করা হয় চা বানানোর জন্য! কিন্তু চা বানানো ছাড়াও চা পাতার আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল মশার উপদ্রব কমানো। তাই আপনাকে যা করতে হবে তা হল চা পাতাগুলি ব্যবহার না করে রোদে শুকিয়ে নিন। এমনভাবে শুকিয়ে নিন যাতে এতে জল না থাকে। আপনি এই চা পাতাটি ধূপকাঠি হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। শুকনো চা পাতা পোড়ানো সব মশা মেরে ফেলে এবং দ্রুত মশা তারাতে সাহায্য করে।

মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

৪. লেবু এবং লবঙ্গ ব্যবহার

এই সহজ পদ্ধতিটি অনেকেরই জানা নেই। প্রথমে একটি বড় লেবু নিন এবং এটি দুটি টুকরো করে নিন। এরপর এই লেবুর ভিতরে অংশে অনেক গুলো লবঙ্গ গেঁথে দিন । লবঙ্গ ফুলের কিছু অংশ ওপরে বেরিয়ে থাকবে । বাকি অংশ লেবুর ভিতরে রাখুন। এবার লেবুর টুকরোগুলো একটি পরিষ্কার পাত্রে ঘরের এক কোণে রাখুন। এতে করে মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে। লেবু এবং লবঙ্গও জানালার গ্রিলের উপর রেখে দেওয়া যেতে পারে। এটি মশার ভেতরে আসা রোধ করবে।

৫. সম্পূর্ণ গতিতে ফ্যান চালু করুন:

মশা খুব হালকা পোকা। তাই আপনি যদি সিলিং ফ্যান বাড়ির মধ্যে সম্পূর্ণ গতিতে চালিয়ে দেন, তাহলে মশা পৌঁছতে পারবে না। স্বাভাবিকভাবেই, মশার উড়ার গতির চেয়ে ফ্যানের ঘূর্ণন গতি বেশি। তাই মশা সহজেই ফ্যান ব্লেডে ুকে যায়। মশার উপদ্রব বেড়ে গেলে পুরো গতিতে ফ্যান ছেড়ে দিন।

আরো পড়ুন: শিশুদের মোবাইলের আসক্তি কমানোর উপায়

৬. কর্পূর এবং রসুনের ব্যবহার:

মশা কর্পূরের গন্ধ মোটেও সহ্য করতে পারে না। একটি ছোট বাটিতে ৫০ গ্রাম কর্পূর ট্যাবলেট রাখুন এবং বাটিতে জল দিয়ে ভরে দিন। তারপর ঘরের কোণে রেখে দিন। মশা সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যাবে। দুই দিন পর পানি পরিবর্তন করুন। এছাড়াও, রসুন স্প্রে মশা তাড়ানোর একটি খুব কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়। 5 ভাগ জলে ১ ভাগ রসুনের রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি দিয়ে একটি বোতল ভরাট করুন এবং শরীরের এমন জায়গায় স্প্রে করুন যেখানে মশা কামড়াতে পারে। এটি করার মাধ্যমে, কোন ধরণের রক্ত ​​চুষা আপনার ধারের কাছে আসবে না।

বন্ধুরা এমনই কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।