যে ৬ টি কারণে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করে

যে ৬ টি কারণে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করে 

অনেকেই মনে করেন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে ট্যালেন্ট এর প্রয়োজন হয়। আর যারা সবার কাছে অপছন্দ দের অনেকেই মনে করে থাকে তাকে কেউ পছন্দ করেনা কারন তার এটা দূর্ভাগ্য।

সে হয়তো স্পেশাল কেউ না তাই তাকে কেউ পছন্দ করে না সেটা আপনার সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আপনি ইচ্ছা করলে সবার মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন শুধুমাত্র এই ৬টি কাজ মেনে চললে অন্যরা আপনাকে অপছন্দ করার বদলে পছন্দ করা শুরু করবে।

অন্যের পছন্দের পাত্র নির্ভর করে আপনার মন-মানসিকতা ও আচার-ব্যবহারের উপর এগুলো কন্ট্রোল করতে পারলেই আপনার আর কোন হেটার্স থাকবে না মানুষের পছন্দের পাত্র হওয়ার জন্য যেমন অনেকগুলো বিষয় মেনে চলতে হয় তেমনি কিছু ত্যাগ করতে হয় তো চলুন জেনে নেই সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে।

১: ইমোশন কন্ট্রোল।

আছে ইমোশন কন্ট্রোল আমরা বেশির ভাগই আমাদের আবেগ এর সঠিক ব্যবহার করতে জানিনা। আমাদের ইমোশন গুলোকে কোথায় কিভাবে প্রকাশ করতে হবে সেটাও জানি না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি হচ্ছে ইমোশন সম্পূর্ণভাবে নিজের ভেতর চেপে রাখা। আর অন্যটি হচ্ছে পুরোটাই প্রকাশ করা এবং সব সময় নিজের ইমোশন নিয়ে আলোচনা করা।

প্রথমটির ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনার স্বামীর সাথে আপনার ইমোশন প্রকাশ করলেন না। যার কারণে আপনার সাথে তার কেমন আচরণ করা উচিত ছিল সেটা জানো না। ফলে তার আচরণ আপনার কাছে অনেক আংকিত মনে হতে পারে। আর তার কাছে কিছু প্রকাশ না করে চুপচাপ থাকার কারণে সেও আপনাকে ভুল বুঝতে পারেন।

২টির ক্ষেত্রে আপনি যদি সবসময় আপনার ইমোশনাল কথা কারো কাছে প্রকাশ করতে থাকেন তবে প্রথম দিকে তার কাছেসহানুভূতিশীল মনে হলেও এটা একসময় বিরক্তি বোধ হতে থাকবে। এবং অন্যের কাছে প্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় সুতরাং আপনার ফিলিং অবশ্যই অন্যের কাছে শেয়ার করুন তবে সবসময় না আপনি কেমন আছেন সেটা অন্যকে বোঝার সুযোগ করে দিন।

২: কথায় বাধা দেয়া।

আছে কথায় বাধা দেয়া যে কোনো আলোচনায় সবাই চায় মনোযোগের কেন্দ্র হতে। এই সময়ে আপনি যদি তাকে বারবার থামিয়ে দিয়ে নিজের কথা বলার চেষ্টা করতে থাকেন তবে আপনি খুব স্বাভাবিকভাবে তার অপছন্দের তালিকায় চলে যাবেন । নেক্সটাইম কেউ যদি আপনাকে গল্প বলা শুরু করে যেটা আপনি অলরেডি জানেন তবে তাকে থামিয়ে দেবেন না তাকে শেষ করতে দিন।

কেউ যখন আপনাকে তার সমস্যার কথা বলতে আসে তখন তার কথায় বাধা দেবেন না কারণ সে চাইবে আপনি তার কথা গুলো শুনেন। অন্যের কথায় বাধা দেয়ার মানে দাঁড়ায় আপনি তাকে মূল্যায়ন দিচ্ছেন না। আপনার সাথে কেউ এমন করলে আপনিও তাকে অপছন্দ করবেন।

যে ৬ টি কারণে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করে 

৩: অতিরিক্ত প্রশ্ন করা।

অতিরিক্ত প্রশ্ন করা যখন আপনি একটি কথোপকথন এর ভেতর থাকেন তখন টপিকের উপর প্রশ্ন করা ভালো এর মানে দাঁড়ায় আপনি বিষয়টিতে খুব আগ্রহী। তবে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে যেন প্রশ্ন করার মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে না যায়। আপনি যদি সামনের ব্যক্তির মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে।

তাকে যদি কিছু বলার সুযোগ না দেন তবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট নিশ্চিত হয়ে যান সেই ব্যক্তি আপনাকে মনে মনে অপছন্দ করা শুরু করবে আপনাকে অবশ্যই কনভারসেশন কে ব্যালেন্স করতে হবে রিলেশন এর ক্ষেত্রেও এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

৪ : ধার করা।

ধার করা জিনিস ফেরত দিতে ভুলে যাওয়া এটি অনেকের কাছেই খুব হালকা বিষয় মনে হলেও এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন আপনি কারও কাছ থেকে যে কোন কিছু উদ্ধার করেন সেটা হতে পারে টাকাপয়সা বই বা যেকোনো কিছুই তা দ্রুত সম্ভব ফেরত দেয়ার চেষ্টা করুন। যদি সেটা কাপড় হয় তবে সেটা পরিষ্কার করে তারপর ফেরত দিন।

আর টাকার ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে তার চাওয়ার আগেই নিজে থাকে সেটা ফেরত দেওয়া আপনি যদি না হয়ে থাকেন বা ইচ্ছে করেই এমন করে থাকেন আর মনে মনে এটা ভেবে থাকেন যে এটা আর এমন কি তবে এটি আপনাকে অন্যের কাছে অপছন্দের পাত্র বানিয়ে দেবে।

[ আরো পড়ুন: এই ৮ টি জীবন বাচানো টিপস আপনার অবশ্যই জেনে রাখা উচিৎ ]

৫: বিল দিতে না চাওয়া।

অনেক গবেষণা বলছে 99.99 শতাংশ মানুষটিকে অপছন্দ করে যে কিনা সহজে কোন বিল দিতে চায় না। এটা খুব সাধারন ভদ্রতা আপনি যখন কোন গ্রুপের সাথে কোন রেস্টুরেন্টে যাবেন তখন অবশ্যই বিল দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখবেন।

টাকা পয়সা সব সময় একটু সেনসিটিভ জিনিস কেউ চায়না যে সে হোক সুতরাং তাদের এমন ভাবার সুযোগ দেবেন না যে তাদের আপনি ইউজ করছেন। যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকে তবে বন্ধুদের সাথে বারবার খেতে যাওয়া কমিয়ে দিন। এতে তারা বুঝতে পারবে আপনি কি কারণে তাদের সাথে ঘুরতে যাচ্ছেন। এতে আপনার প্রতি তাদের অনেক সিমপ্যাথি তৈরি হবে।

৬: সোশ্যাল মিডিয়ায় ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত শেয়ার গবেষণায় উঠে এসেছে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় যত বেশি পোস্ট করে থাকে তারা রিয়েল লাইফে তত বেশি গুরুত্ব হারায়। তারা আশা করতে থাকে তাদের পোস্টে লাইক কমেন্ট করুন কিন্তু এটা করতে গিয়ে তারা উল্টোটা অর্জন করে বসে অর্থাৎ মানুষ তাকে অপছন্দ করা শুরু করে।

আপনাকে যদি কেউ বলে আপনার প্রতি মুহূর্তের আপডেট আপনাকে জানাতে হবে আপনি কি সেটা পছন্দ করবেন আপনার প্রতি মুহূর্তে কি করছেন কোথায় আছেন কি খাচ্ছেন সেটা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনাকে তারা এড়িয়ে চলতে শুরু করবে এবং বাস্তব জীবনেও একই ঘটনা ঘটে। আপনার যদি এমন কোন স্বভাব থেকে থাকে তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন।

আপনি নিজেও তো আশেপাশের এমন মানুষদের পছন্দ করেন না তাহলে অবশ্যই নিজেকে পরিবর্তন করা উচিত।

বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।