সারাজীবন বোকা না থেকে মানুষ চিনুন এই ৬ উপায়ে 

সারাজীবন বোকা না থেকে মানুষ চিনুন এই ৬উপায়ে 

কোন কোন মানুষের বাইরের রূপ গুণ ব্যবহার দেখে বন্ধুত্ব করি তখন আমরা বুঝতে পারি না যে মানুষটা আমাদের জন্য ভালো নাকি খারাপ। এরপর সেই মানুষটি যখন আপনার ক্ষতি করে আপনাকে কষ্ট দিয়ে চলে যায় তখন আপনি বুঝতে পারেন যে মানুষটি কতটা খারাপ ছিল। আর তখন আপনি ভাবেন মানুষটার এইরূপ যদি আগে বুঝতে পারতাম তাহলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতাম না।

বন্ধুরা আজকের এই প্রতিবেদনে আমি আচার্য চাণক্যের এমনই কিছু নীতি নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি যেগুলো আপনাকে মানুষ চিনতে সাহায্য করবে তাই আজকের এই প্রতিবেদনটি মনযোগ দিয়ে পড়ুন।

আমরা অনেকেই জানি যে আচার্য চাণক্য অনেক বড় পন্ডিত ছিলেন তিনি যে কোন মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝে নিতে পারতেন যে মানুষটি অসৎ নাকি সৎ তাই আজ আমরা চাণক্য পন্ডিতের এমন কিছু নীতি নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো জানলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার সামনের মানুষটি খারাপ নাকি ভালো।

প্রথমে এমনটাই প্রকারের মানুষের কথা বলব যাদের থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত এবং আমরা এটাও জানব যে তাদেরকে কিভাবে চিনতে হয়

১. সোনা কতটা পিওর তার সোনাকে ঘষলে বা আগুনে পুড়িয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন ঢিক তেমনি একজন বন্ধুর পরিচয় তখনই পাবেন যখন আপনি কোন বিপদে পড়বেন কারণ যে সত্যি কারের বন্ধু হয় সে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতে আপনার জীবন যুদ্ধে প্রতি মুহূর্তে আপনার পাশে থাকবে। আপনাকে সাহায্য করবে কখনোই আপনাকে একা ফেলে পালাবে না। ঠিক সেই একই ভাবে আপনি আপনার স্ত্রী কেউ চিনতে পারবেন যখন আপনি * নিঃস্ব হয়ে যাবেন আপনার টাকা পয়সা ব্যাংক ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাবে একজন আদর্শ স্ত্রী সীতা মাতার মত হয় যে আপনার সুখ-দুঃখের যেকোনো পরিস্থিতিতেই আপনার সাথে থাকবে।

আর যারা স্বার্থলোভী স্ত্রী হয় তারা মুশকিল সময় এলেই আপনাকে ছেড়ে অন্য কারোর হাত ধরে চলে যেতে পারে তাই চাণক্য পন্ডিত বলেছেন লোভী ধোঁকাবাজ বন্ধুর থেকে অনেক দূরে থাকাই ভালো।

২. চাণক্য বলেছেন যে ব্যক্তি তার বাবা-মায়ের সামনে মিথ্যা কথা বলে এবং খুব কনফিডেন্টলি মিথ্যা বলতে পারে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকাই ভালো কারণ যে তার বাবা-মাকে মিথ্যা বলতে পারে সেই ব্যক্তি আপনাকে ঠকাতে আপনাকে মিথ্যা জালে ফাঁসাতে দুবার ভাববে না। এই সমস্ত মানুষরা নিজের কাজ হাসিল করার জন্য নিজের লাভের জন্য যে কোন মানুষকে ঠকাতে দুবার ভাবে না এরকম লোক আপনার সামনে এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে এবং আপনার পিছে আপনাকে ছুরি মারবে। বন্ধুরা আপনারা যদি এরকম কোন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করে থাকেন তাহলে এখনি সাবধান হয়ে যান।

আরো পড়ুন: এক সপ্তাহ প্রতিদিন বাদাম খেলে কি ঘটবে

৩. নীতিতে চাণক্য যে বলেছেন যে ব্যক্তি তার প্রেমের জন্য তার জীবন সাথী সুখের জন্য নিজের সুখ এমনকি তার নিজের জীবন দেওয়ার মতো ভাবনা রাখে সেই হল সত্যিকার প্রেমিক। একটা কালো মৌমাছির এত বেশি ক্ষমতা থাকে যে একটি কাঠের টুকরো কেউ ছিদ্র করতে পারে। কিন্তু সেই মৌমাছি যখন কোন সুন্দর ফুলে আটকে যায় তখন সে ফুল থেকে বেরোতে পারে না। যেখানে সে একটি কাটকে ছিদ্র করার ক্ষমতা রাখে সেখানে একটি নরম ফুলের পাপড়ি ছেড়ে বেরোতে পারে না।

আর এর কারণ হলো মৌমাছিটি ফুলটিকে অনেক বেশি ভালবাসে তাই সে চায়না ফুলটিকে কোনরকম আঘাত করতে সে চায়না সুন্দর ফুলের কোন ক্ষতি হোক সে ভালোভাবেই জানে এভাবে আটকে থাকলে তার মৃত্যু ঘটতে পারে। কিন্তু সে তার প্রাণের পরোয়া না করেই ভালোবাসার জন্য তার নিজের প্রাণ ত্যাগ করতেও রাজি আছে। আর ঠিক এই ভাবেই যে ব্যক্তি তার জীবন সাথীর জন্য ভাবনা রাখে সেই ব্যক্তি আপনাকে সত্যি কারের ভালবাসে এরকম চিন্তার মানুষ কখনই আপনার বিশ্বাস ভাংবে না।

তবে আমি এটাও বলব যে প্রেমের জন্য জীবন দিয়ে দাও এটা একদম ঠিক না এটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং পাপের কাজ তাই এটা কখনোই করবেন না চাণক্য যেখানে প্রেমের জন্য জীবন দিতে মোটেই বলেননি তিনি শুধুমাত্র জীবন দিয়ে দেওয়ার মতো ভাবনা রাখার কথা বলেছেন। অর্থাৎ তিনি এখানে এটা বুঝাতে চেয়েছেন যে নিজের প্রাণের চেয়েও আপনি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বেশি ভালবাসেন।

কিন্তু আর একদিকে রয়েছে কিছু মুখোশধারী মানুষ যারা ভালোবাসা বলতে শুধু শরীর বোঝে তাই এই ধরণের মানুষরা নিজেদের চাহিদা ফুরালেই আপনাকে দূরে ঠেলে চলে যাবে তাই এই সমস্ত মানুষদের থেকেও অবশ্যই দূরে থাকুন।

৪. আচার্য চানক্য পন্ডিত বলেছেন চন্দন কাঠ কে আপনি যত ছোট টুকরো করেই কাটুন না কেন তার সুগন্ধ কখনো কমেনা। ঠিক সেভাবেই একজন জ্ঞানী ব্যক্তির জীবনে যতই সমস্যা আসুক না কেন তার ভালো কোয়ালিটি ভালো সংস্কার কখনো শেষ হয়ে যায় না। আবার অন্যদিকে আপনি একটা কাককে যতই স্নান করেন না কেন কখনই সে ফর্সা হবে না আর একটা মদের বোতল কে যতই পুড়িয়ে ফেলুন না কেন সেটা কখনোই পবিত্র হবে না।

ঠিক সেরকমই যে ব্যক্তির মধ্যে নোংরা চিন্তা ধারা রয়েছে কুবুদ্ধি রয়েছে তারা হাজার স্নান করুক না কেন তারা কখনই ভাল হতে পারবে না। অর্থাৎ বন্ধুরা আপনারা যদি বাজে চিন্তা ধারা লোকেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে থাকেন তাহলে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি একদিন সেই বন্ধুটি আপনার মাথাতেও ধীরে ধীরে এরকম কুরুচি দিয়ে আর নোংরা চিন্তাধারা ভরিয়ে দেবে। তাই এই ধরনের লোকের
সঙ্গে মেলামেশা করা উচিত নয়।

৫. আচার্য চানক্য পন্ডিত বলেছেন যে ব্যক্তি সৎ এবং চরিত্রবান হয় সে কাদায় ফোটা পদ্মের মতো হয় সে নিজের সৌন্দর্য ভরিয়ে তোলে। অপরদিকে শয়তান এবং কুসংস্কারের ব্যক্তি গোলাপ ফুলে থাকা কাটার মত হয় যারা এত সুন্দর সমাজ থেকেও খারাপ কাজ করে বেড়ায়। তাই চাণক্য পন্ডিত বলেছেন মানুষকে তার ধর্ম জাতি দিয়ে নয় বরং তাদের কর্ম এবং চরিত্র দিয়ে চিনতে হবে।

আরেকটি এক্সাম্পল হলো একটা কাক যতই উঁচু টিলার উপর বসে থাকুক না কেন সে কখনোই ঈগল হতে পারবেনা। সে রকমই একজন মানুষ কতটা মহান সেটা তার চরিত্র চিন্তা ধারা এবং সংস্কার দিয়ে বোঝা যায়। এটা নয় যে সে কত প্রভাবশালি তাই বন্ধুরা চাণক্য পন্ডিত বলেছেন আমাদের দুষ্টু লোক তাদের কর্ম দেখে চিহ্নিত করতে হবে তাদের ধর্ম জাতি দেখে নয়।

৬. শেষ প্রকারের মানুষটি কেমন হবে তা আমি একটি প্র্যাকটিকাল এক্সাম দিয়ে বলছি। একটি শহরে একজন পেইন্টার ছিলেন যার নাম ছিল সমীর তিনি সবেমাত্র পেইন্টিংয়ের প্রফেশন শুরু করেছিলেন। তাই অনেক চেষ্টা করে তিনি একটি পেইন্টিং বানালে তিনি ভাবলেন আমার পেনডিং টা কেমন হলো তা যদি সবাই দেখে একটু বলতো এবং কি ভুল রয়েছে তা যদি সবাই একটু ধরিয়ে দেয় তাহলে আমি আরো অনেক ভালো পেইন্টিং করতে পারতাম।

তাই তিনি সেই পেইন্টিংটি কে রাস্তার মোড়ের সামনে রেখে দিয়েছিলেন এবং তার নিচে লিখে দিয়েছিলেন এই পেইন্টিংটি কি ভুল রয়েছে দাগ দিয়ে রাখুন এবং এক ঘন্টা পর ফিরে এসে তিনি দেখলেন তাঁর পেইন্টিংটি দাগে ভরা সবাই তার পেন্টিং এর সব জায়গাতেই দাগ দিয়ে রেখেছে এটা দেখে তিনি খুব কষ্ট পেলেন। এবং ভাবলেন যে তিনি পেইন্টিংটি আরো ভালো করে বানাবেন তিনি আবার চেষ্টা করলেন এবং আরও একটি ভালো পেইন্টিং তৈরি করলেন।

আরো পড়ুন: মাত্র ৫ মিনিটে দাঁতের পাথর দূর করুন

এবং সেটি কেউ মোড়ের মাথায় রাখলেন এবং একইভাবে তিনি দেখলেন সেই পেইন্টিংটি তো আরো বেশি দাগ। এবার তিনি খুব রেগে গেলেন এবং মনের কষ্টে বাড়ি ফিরতে লাগলেন তখন তার এক বন্ধু এই অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসা করলো যে কি হয়েছে তিনি তার বন্ধুকে সমস্ত কথা খুলে বললেন। এবং সে পেইন্টিং করা ছেড়ে দেবেন সেটাও জানালেন।

তখন তার বন্ধু বলল শেষবারের মতো আরেকটা পেন্টিং বানাতে বলল কেন তখন সেই বন্ধুটি বলল তুই বানা তো আগে আমি পরে বলছি এবং সে পরের দিন অনেক কষ্ট করে আরো ভালো করে একটা পেইন্টিং বানালো এবং তার বন্ধুর হাতে দিয়ে বলল এই নে তোর পেইন্টিং এবার বল কেন বানাতে বললি। তখন তার বন্ধুটি বলল চল এবার আমার সঙ্গে এবার তারা আবারও সেই মোড়ের মাথায় গিয়ে পেইন্টিংটি কে রাখল এবং নিচে লিখল এই পেইন্টিং কোথায় ভুল আছে তা খুঁজে বার করুন এবং ভুলগুলোকে শুধরে দিন।

এবং এর কিছুক্ষণ পর তারা যখন ফিরে এলো তখন তারা দেখল যে আজকে এই পেইন্টিংটি মধ্যে কেউ দাগ দেয়নি। আর অপরদিকে যখন ভুল ধরতে দেওয়া হয়েছিল তখন সবাই ভরে ভরে দাগ দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখনই সে ভুল শুধরে দেওয়ার কথা বলা হলো তখন ইয়ার পেইন্টিংয়ের কেউ টাচ পর্যন্ত করলো না। এর মানে হলো আপনি যখনই কোন কাজ করতে যাবেন তখন ভুল ধরার জন্য মানুষের কোন অভাব হবে না। ঠিক এরকমই আপনার জীবনে অনেক লোক রয়েছে যারা সবসময় আপনাকে নেগেটিভ চিন্তাধারা দেবে হবেনা পারবেন না এটা করে কি হবে এই সমস্ত কথা বলবে তাই এই সমস্ত কথায় কান না নিজের কাজটা করতে থাকুন।