২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার মিলিটারিতে ব্যবহৃত কিছু টেকনিক

২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার মিলিটারিতে ব্যবহৃত কিছু টেকনিক

আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই একটি কমন সমস্যা দেখা যায় সমস্যাটা অনেকটা এমন যে আপনি সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ফিরলেন ফ্রেশ হলেন খাওয়া-দাওয়া করলেন এরপর ঘুমাতে গেলেন লাইট অফ করলেন চোখ বন্ধ করলেন কিন্তু তারপর ঘুম আসলো না। কিছুক্ষণ আগেও রাজ্যের ঘুম আপনাকে তাড়া করছিল কিন্তু এখন তার কিছুই নেই আপনি বিছানায় কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করলেন আরামদায়ক পজিশন খুঁজে বের করলেন কিন্তু কোন লাভ হল না। 

ঘড়ির কাঁটা যতই অতিবাহিত হচ্ছে আপনার দুশ্চিন্তা ততোই বাড়ছে এবং মনে মনে ভাবছেন ঘুমাতে না পারলে কালকের দিনটি খুব খারাপ যাবে । অফিসে কিংবা ক্লাসে কত সহজেই ঘুমিয়ে পড়া যায় কিন্তু রাতে বিছানায় কেন সেটা হয়না। এমন অনেক চিন্তা করতে থাকেন আর এরই মধ্যে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন রাত তিনটে বেজে গেছে যদি এই ব্যাপার গুলো আপনার কাছে পরিচিত মনে হয় তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।

আপনাকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে করণীয় সম্পর্কে বলবো এছাড়াও ইউএসএ মিলিটারিতে ব্যবহৃত কিছু টিপস শেয়ার করবো ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই ৭টি টিপস আপনার ফলো করতে পারেন। 

১. ঠান্ডা জায়গায় ঘুমাতে যাওয়ার আপনার চারপাশের পরিবেশ বিশেষ করে আপনার বিছানা-বালিশ ইত্যাদিতে লাগানোর পর যদি গরম অনুভূত হয় তবে এটি আপনার ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও আপনার রুমের ভেতর যদি পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে না পারে তবে সেটা আপনার ঘুমের উপর প্রভাব ফেলবে। স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর জন্য আপনার শরীরের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেতে হয় সুতরাং বুঝতেই পারছেন না পরিবেশের গুরুত্ব অনেক। আপনি হয়তো শুনে একটু হতাশ হবেন যে ঘুমানোর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এটা আমাদের দেশে এয়ারকন্ডিশনিং সম্ভব।

২. ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে সান করা শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে ঠান্ডা পানির তুলনায় হালকা গরম পানিতে সান করলে সান শেষে শরীরের অভ্যন্তরে দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং শরীর তখন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। 

আরো পড়ুন: ভাত না ছেড়ে ভুঁড়ি কমানোর টিপস

৩. ঘড়ি কে দূরে রাখুন বারবার ঘড়ি দেখা আর কয় ঘন্টা ঘুমালাম তার হিসেব করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর এটা শুধু শুধুই দুশ্চিন্তা বারায় এছাড়াও আপনাকে অবশ্যই ক্যাফেইন এবং নিকোটিন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে ঘুমানোর আগে কফি চকলেট এমনকি কিছু চা এবং ধূমপান ঘুমের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। 

৪. ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ এটিই হচ্ছে দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। অফিসে যাওয়ার আগে যদি আপনি কিছু সময় এক্সারসাইজ করেন তবে এটি আপনাকে সারাদিন যেমন চঞ্চল রাখবে। তেমনি রাতে ঘুমাতে সাহায্য করবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুপুরে যদি হালকা ঘুম পায় তবে সেটা তিনটার আগেই সেরে নিন ভুলেও যেন তিনটার পরে না ঘুমান। কারণ এটি রাতে ঘুমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার মিলিটারিতে ব্যবহৃত কিছু টেকনিক

৫. ঘুমের জন্য নিজের মনকে প্রস্তুত করুন ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে আপনি রিল্যাক্স হয়েছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করুন। কেননা আপনি যদি কোনো কাজ অসমাপ্ত করে রেখে আসেন অথবা বাহির থেকে এসে শুয়ে পড়েন তবে আপনার ঘুম আসতে অনেক দেরি হবে ঘুমের আগে নিজেকে রিল্যাক্স করুন প্রয়োজনে একটি বই নিয়ে কয়েক পৃষ্ঠা পড়তে থাকুন এটা আপনাকে ঘুমের জন্য মাইন্ড কে প্রস্তুত করবে। 

৭. সূর্যের আলোতে যাওয়া যদি আপনার ঘুমানোর সমস্যা থেকে থাকে তবে আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হলেও সূর্যের আলোতে যেতে হবে এটা আপনার মস্তিষ্ককে দিন এবং রাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করবে ফলে রাতে অটোমেটিকেলি ক্লান্তি এনে দেবে। এছাড়াও শুয়ে পড়ার পর মোবাইল হাতে নেওয়া ঘুমের জন্য অনেক ক্ষতিকর তাই মোবাইলের সকল কাজ ঘুমানোর কিছুটা আগেই সেরে রাখুন।

 এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত কিছু টেকনিক তাদের মতে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আপনি মাত্র ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন একজন পাইলটও চাইলেই এই টেকনিকে চলন্ত বিমানে মাত্র ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পরতে পড়েন। 

প্রথমত নিজেকে আগে রিল্যাক্স করুন এরপর একটি গভীর শ্বাস নিন চোখ বন্ধ করুন এবার আপনার মনোযোগটা মুখমন্ডলের দেখে নিন। আস্তে আস্তে প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রিল্যাক্সনে ছেড়ে দিন এমন ভাবে শ্বাস নিন যেন সমস্ত শরীরে প্রশান্তি অনুভূত হতে থাকে। এমনকি অনুভব করুন আপনার চোখের মনি আপনার চোখ কোটরে ডুবে আছে। শরীরে দিকে মনোযোগ দিয়ে রিল্যাক্সিং করে ফেলুন মনোযোগটা ধীরে ধীরে উপর থেকে নিচের দিকে নামাতে থাকুন।

আরো পড়ুন: গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে কি করবেন?

 যেমন অনুভব করুন বুক হাত হাতের আঙ্গুল কোমর ও পায়ের আঙ্গুল এবং সাথে সাথে গভীর শ্বাস নিতে থাকুন মনের ভেতর হতে থাকা সকল চিন্তাভাবনাকে এক এক করে দূর করতে থাকুন এটা করার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ নিন অথবা নিজেকে একটি সুন্দর মনোরম পরিবেশে কল্পনা করুন। এই পদ্ধতি গুলো শুনতে সাধারন মনে হলেও এগুলো অনেক পাওয়ারফুল এগুলোকে অনেকটা মেরিটিশন বলা হয় প্রথম রাতে এগুলো তেমন কার্যকর না হলেও যদি প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে থাকেন তবে বুঝতে পারবেন এগুলো কতটা পাওয়ার ফুল। 

এছাড়াও আরেকটি টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যদি উপরের টিপসগুলো ফলো করতে না চান তবে এটা ফলো করুন আর সেটা হল প্রতিদিন যতো রাতে ঘুমোতে যান না কেন একটু সকাল সকাল ওঠার চেষ্টা করুন। এমনকি ছুটির দিনেও আমি জানি এটা কষ্টকর কিন্তু আমরা মানব জাতি অভ্যাসের দাস আর কষ্ট করে এই অভ্যাসটা করতে পারলে আপনি আপনার জীবনে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা পাবেন।

বন্ধুরা এই প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ।