৮ টি জীবন বাচানো টিপস আপনার অবশ্যই জেনে রাখা উচিৎ

এই ৮ টি জীবন বাচানো টিপস আপনার অবশ্যই জেনে রাখা উচিৎ

বিপদের মুহূর্তে আমরা অনেকেই দিশেহারা হয়ে যায় আর এই সময় কোন বুদ্ধি মাথায় আসতে চায় না তাই জরুরি মুহূর্তে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি যা কিনা হিতে বিপরীত হয়।

আজকের এই প্রতিবেদনে এমন কিছু লাইফ সেভিং আপনাদের সাথে শেয়ার করবো যা জানা থাকলে আপনার বিপদের মুহূর্তে চটজলদি প্রয়োগ করে খুব দ্রুত ফলাফল পেতে পারেন তাই বিষয়গুলো জেনে রাখা প্রত্যেকের জন্য জরুরী।

১. হাড়ভাঙ্গা :

হাড়ভাঙ্গা জোড়া লাগানো ধরন আপনার আশেপাশে হঠাৎ এক্সিডেন্ট হওয়া এমন কোনো মানুষ যা শরীরের কোন হাড় ভেঙে গেছে এমন অবস্থায় কি করা উচিত। যদি আপনি একজন প্রফেশনাল ডাক্তার না হয়ে থাকেন। তবে নিজে কখনো হাড়ভাঙ্গা কে পজিশন করতে যাবেন না এটা আরো বেশী বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম কাজ হল ভাঙা জায়গা যাতে নড়াচড়া করতে না পারে এজন্য দুটি লাঠি সাহায্যে বেঁধে রাখা এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। ভাঙা জায়গাকে শক্ত করে ব্যান্ডেজ করে দিলে যে শুধু হাড়ের নড়াচড়া বন্ধ হবে।

২. পুড়ে যাওয়া :

পুড়ে যাওয়া কোথাও পুড়ে গেলে প্রচুর যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। তাই যদি দেখেন বেশি পুড়ে গেছে তাহলে আগেই এম্বুলেন্স এর খবর দিতে হবে এরপর পড়ার ধরন অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। যদি দেখেন সামান্য পুড়ে গেছে কিন্তু তেমন কোনো ক্ষতি গ্রস্থ হয়নি তাহলে জল দিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

এরপর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিন এবং এর উপর বরফ দিয়ে দিন চাইলে আপনি ক্ষতি গ্রস্থ স্থাথানে অ্যালোভেরা জেল ও ব্যবহার করতে পারেন।

আর যদি পড়ার পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এম্বুলেন্সে কল করবেন সবার প্রথমে। এরপর ওই স্থানে কাপড়ের ব্যান্ডেজ করে দিন আর ভুলেও তখন সেসব স্থানে জল ঢালতে যাবেন না জলতে ভেজানো এক্ষেত্রে বিপদজনক এতে করে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে।
ব্যান্ডেজ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

[আরো পড়ুনশিশুদের মোবাইলের আসক্তি কমানোর উপায় ]

৩. ফুড পয়জনিং :

ভারী খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হয়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। ফুড পয়জনিং হলে আমাদের শরীর জলশূন্য হয়ে যায় ফলে প্রচুর জল পান করার প্রয়োজন হয়। তবে একবারে অনেক বেশি জল পান করবেন না।

জল পান করতে হলে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়াবেন এই অবস্থায় জল পান বমি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে চাইলে আপনি পাতিলেবুর রস খেতে পারেন লেবুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধ্বংস করতে সাহায্য করবে যতক্ষণ না স্বাভাবিক হচ্ছেন খুব সহজে হজম হয় এমন সাধারণ খাবার খেয়ে যান।

মনে রাখবেন ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করতে যাবেন না এতে করে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে তবে যেকোনো ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

এই ৮ টি জীবন বাচানো টিপস আপনার অবশ্যই জেনে রাখা উচিৎ

৪. সাপের কামড় :

সিনেমাতে আমরা প্রায়ই দেখি সাপে কামড়ালে মুখ দিয়ে চুষে বিষ বের করছে আর এগুলো দেখে অনেকেই মনে করেন এটাই সঠিক চিকিৎসা। কিন্তু এটা ভুলেও এ ধরনের কাজ করতে যাবেন না এমনকি কামড়ানো স্থানের একটু উপরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেও তেমন কোনো লাভ নেই।

তাহলে যেটা আপনি করতে পারেন একদমই সময় নষ্ট না করে প্রথমেই এম্বুলেন্সে ফোন করবেন প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করতে হবে। কারণ বেশিরভাগ সাপে টাকা ব্যক্তি মনে করেন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে সাহস দেয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসা।

যত তাড়াতাড়ি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে রোগী বিশ্বাস ও সাহস ফিরে পাবে। তার আগে যেটা করতে পারেন আহত ব্যক্তি কে সমান জায়গায় শুইয়ে দেবেন তারপর ভেজা কাপড় দিয়ে কিংবা জীবন নাশক লোশন দিয়ে ক্ষতস্থান মুছে দিতে হবে। এরপর কামড়ানো স্থান একটু উঁচু করে রাখবেন যাতে ওই স্থানে রক্তের প্রবাহ কম হয়।

এরপর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হবে স্থানান্তরের সময় আক্রান্ত যেয়গায় হাতে দেয়া যাবেনা রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে সিপিআর ট্রিটমেন্ট দেয়ার চেষ্টা করুন।

৫. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া :

কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলে আমরা তার মুখে পানি ছিটিয়ে দি এটি জ্ঞান ফেরানোর একমাত্র ট্রিটমেন্ট হিসেবে ধরা হয়। তবে এটি করতে যেয়ে খিচুনি উঠে যেতে পারে। তাই প্রথমেই মাথার নিচে কিছু একটা দিয়ে উঁচু করে দিন এরপর জামার বোতাম খুলে রিল্যাক্স করে দিন। একটু বাতাস করুন এবং জ্ঞান ফেরার পর যেন উঠে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন এছাড়াও জ্ঞান ফেরার পর কপি অথবা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ানো থেকে বিরত।

৬. কেটে যাওয়া :

কেটে গেলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ঠাণ্ডা জল এবং সাবান দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে নিন এবং একটি পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করে নিন। এটি খুব দ্রুত শুকিয়ে যাবে এবং বশি প্ররিমানে কেটে গেলে বা ফ্র্যাকচার হলে অবশ্যই হসপিটালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান কারন বশি প্ররিমানে কেটে গেলে বা ফ্র্যাকচার হলে সেলাই করার প্রয়োজন হতে পারে।

[আরো পড়ুনযেসব লক্ষণে দেখে বুঝবেন সন্তান মিথ্যা বলছে ]

৭. নাক দিয়ে রক্ত পড়া :

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আমরা মাথাকে উপর করে রাখি আর মনে করি এতে রক্ত কম আসবে এটি ভুলেও করবেন না। কারণ এর ফলে রক্ত আপনার গলায় প্রবেশ করতে পারে এমন অবস্থায় আমরা কি করব তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনা। নাক দিয়ে রক্ত পড়লে প্রথমে যেটা করতে পারেন সোজা হয়ে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে চেয়ারে বসে পড়ুন। আঙ্গুল দিয়ে নাকের দুই ছিদ্র জোরে বন্ধ করুন মুখ দিয়ে শ্বাস নিন এভাবে ১০ মিনিট ধরে রাখুন এসময় আঙ্গুল ছাড়বেন না প্রয়োজন হলে আরো বেশি সময় চাপ দিয়ে ধরে রাখুন।

সম্ভব হলে কপালে নাকের চারপাশে বরফ ধরে রাখুন তাহলে রক্ত পড়া তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে। নাকে আঘাত জনিত কারণে রক্তপড়লে বা রক্ত বন্ধ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বেশি পরিমাণে রক্তপাত হলে রক্ত ফুসফুসে গিয়ে জটিল সমস্যা করতে পারে।

৮. কাটা স্থানের সেলাই :

কোথাও কেটে গেলে বা জখম হলেন সেলাই করা একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয় কিন্তু এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এমনকি সেলাই কাটা ও আরেকটি ভীতির নাম। কাটা স্থান যদি খুব বেশি ফাঁকা হয়ে যায় তবে এখানে আরেকটি জিনিস আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

আর সেটি হল স্কিনগ্লও প্রথম স্থানটি জল দিয়ে ধুয়ে নিন এরপর রক্ত বন্ধ করার জন্য কিছুক্ষণ চেপে ধরুন এরপর এর উপরে স্কিনগ্লও লাগিয়ে নিন যে কোন মেডিকেল শপ আপনি এগুলো কিনতে পাবেন।

বন্ধুরা আপনার কাছে কোনটি কার্যকর মনে হয়েছে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানান
আর এই প্রতিবেদনটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন ধন্যবাদ ।